আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের একবার বড় ধাক্কা খেলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। মুর্শিদাবাদের ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের প্রতিষ্ঠা করা নবগঠিত এই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ভোটের আগে নির্বাচনী জোট ভঙ্গ করল আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল ' মিম '।
একটি স্টিং অপারেশনে তোলা হুমায়ুন কবীরের গোপন একটি ভিডিও গতকাল প্রকাশ্যে আসার পরই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ভিডিওটিতে (যার সত্যতা আজকাল ডট ইন যাচাই করেনি ) দেখতে পাওয়া যাচ্ছে হুমায়ুন কবীর এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের সময় রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দলকে সাহায্য করার জন্য এক হাজার কোটি টাকা চাইছেন। এর পাশাপাশি ওই ভিডিওতে হুমায়ুনকে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর বিজেপি দলকে রাজ্য সরকার গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রী পদ পেতে সাহায্য করবেন বলেও বলতে শোনা গিয়েছে।

ভিডিওটিতে একঝলক দেখে অনুমান এটি গত ডিসেম্বর মাসে হুমায়ুন কবীরের বহরমপুরের ফ্ল্যাটে গোপনে তোলা হয়েছিল। তবে হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন এই ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং এআই পদ্ধতি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আনার জন্য হুমায়ুন কবীরের তরফ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দু'হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এবছর প্রায় ১৮০ - র বেশি আসনে হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং মিম দল জোট করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তার মধ্যে রাজ্যের ১২ টি আসনে লড়াই করছে মিম দল। ইতিমধ্যেই মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, হুমায়ুন কবীরের সমর্থনে একবার মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা এলাকায় এসে নির্বাচনী জনসভাও করেও গিয়েছেন। মিম প্রধান এবং হুমায়ুনের রাজ্য জুড়ে একসঙ্গে প্রায় ২০ টি নির্বাচনী জনসভা করার কথা ছিল। এই কারণে একটি হেলিকপ্টারও ইতিমধ্যেই ভাড়া করা হয়েছে।
যদিও দ্বিতীয় দফায় আসাদউদ্দিনের রাজ্য জুড়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার আগেই হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত ভিডিওটি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। আর এই ভিডিও দেখার পরই আসাদউদ্দিন নিজের সমাজ মাধ্যমের পাতায় হুমায়ুনের দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন।
নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় মিম প্রধান লিখেছেন ,"হুমায়ুনের মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমরা কতটা অসহায়। এমন কোনও মন্তব্যের সঙ্গে মিম জড়িয়ে থাকতে পারে না যেখানে মুসলিম সমাজের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। সেই কারণে আমরা আসন্ন নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে হুমায়ুনের দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। দশকের পর দশক ধর্মনিরপেক্ষ রাজত্ব চলার সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান সম্প্রদায় একটি দরিদ্র, অবহেলিত সমাজ হিসেবে থেকে গিয়েছে। তাঁদের জন্য কিছুই করা হয়নি। "
প্রসঙ্গত হুমায়ুনের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করে রাজ্যের যে ১২টি কেন্দ্রে মিম প্রার্থী দিয়েছে তার মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলার উল্লেখযোগ্য আসনগুলো হল রঘুনাথগঞ্জ ,সুতি ,রানীনগর ,কান্দি। তবে হুমায়ুনের ছেড়ে আসা ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি কোনও প্রার্থী দেয়নি। এর পাশাপাশি মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন অর্থাৎ গতকাল হুমায়ুনের আরও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে।
মিম দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য হুমায়ুন কবীরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি উত্তর দেননি। তিনি প্রতিক্রিয়া দিলে পরে এই প্রতিবেদনে যোগ করা হবে।















