আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভাঙড়ে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে ঘিরে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত এই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং NIA-র একটি বিশেষ দল। ভোটের দিন ভোর থেকেই গোটা এলাকায় কড়া নজরদারি শুরু হয়, যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাঙড়ের একাধিক বুথকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সব এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বুথের আশপাশে টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, পাশাপাশি রয়েছে রাজ্য পুলিশের কড়া নজর। বিশেষ করে অতীতে যেসব এলাকায় অশান্তির নজির রয়েছে, সেখানে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ড্রোন নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য।
এবারের ভোটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দা তথ্যের উপর। সেই কারণেই NIA-র একটি বিশেষ দলকে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় গোপন নজরদারি চালাচ্ছে এবং সন্দেহজনক গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখছে। প্রশাসনের দাবি, কোনওভাবেই যাতে বাহুবল বা ভয় দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করা না যায়, তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই বুথগুলিতে দেখা গিয়েছে দীর্ঘ লাইন, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন। মহিলা ভোটারদের জন্য আলাদা লাইন, প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকায় ভোটাররা অনেকটাই নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারছেন।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। নিয়মিত রিপোর্ট নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন বুথ থেকে। কোথাও কোনও অভিযোগ উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর মিললেও, প্রশাসনের তৎপরতায় তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলেও ভাঙড়ের ভোট নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। অতীতে এই এলাকায় একাধিকবার অশান্তির ঘটনা ঘটায় এবার প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। সেই কারণেই বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি জানালেও, মাঠে নামানো হয়েছে বিশাল বাহিনী।
&t=26s
সব মিলিয়ে, ভাঙড়ে এবারের ভোট যেন প্রশাসনের কাছে এক বড় পরীক্ষা। নিরাপত্তা ও নজরদারির এই কড়াকড়ির মধ্যে দিয়ে নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।
















