আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার সাত সকালে সরগরম কলকাতা। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই চারিদিকে তল্লাশি অভিযান। একদিকে বেআইনি জমি দখল ও আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগে আয়কর হানার মুখে রাসবিহারী বিধায়ক কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দেবাশিস কুমার, অন্যদিকে প্রোমোটিং ও ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় শহরের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশিতে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ দিন সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ঘেরাটোপে চলে এই জোড়া অভিযান।

সাত সকালে দক্ষিণ কলকাতায় দেবাশিস কুমারের বাসভবনে পৌঁছন আয়কর আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, অমিত গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক ব্যবসায়ীর সূত্র ধরেই বিধায়কের নাম উঠে এসেছে। 

অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধভাবে জমি দখল করে পুরসভার ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করে তা কেনাবেচা করা হতো। যেহেতু দেবাশিস কুমার পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, তাই এই নথি তৈরিতে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল কি না বা এর বিনিময়ে তিনি আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
 
জানা গিয়েছে, এর আগে ইডি তাঁকে দু’বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এবার হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির হদিশ পেতে আসরে নেমেছে আয়কর দপ্তর। পাশাপাশি, আনোয়ার শাহ রোডের পিআই বিল্ডিংয়ে তৃণমূল কর্মী শেখ রিয়াজের বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছে তারা।

একই দিনে শহরের একাধিক প্রান্তে হানা দিয়েছে ইডি। মার্লিন গোষ্ঠীর আবাসন প্রতারণা ও কালো টাকা সাদা করার অভিযোগে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর। ইডি সূত্রে দাবি, একদল ব্যবসায়ীর মাধ্যমে এই গোষ্ঠীর কালো টাকা বাজারে খাটানো হতো।

শিল্পপতি প্রয়াত কে এল ধনধানিয়ার বাড়িতে অভিযান চলে। তাঁর পুত্র বি কে ধনধানিয়ার রাবার ব্যবসা ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি এসি ১৭ ব্লকের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও পৌঁছে গিয়েছেন তদন্তকারীরা।

কয়েক দিন আগেই জমি দখল কাণ্ডে অমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর নথিপত্র উদ্ধার করেছিল ইডি। গোয়েন্দাদের দাবি, অমিতের সঙ্গে দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ইতিমধ্যেই বিধায়ক তাঁর সম্পত্তির নথি জমা দিয়েছেন, যা খতিয়ে দেখে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।