আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার গভীর রাত, কিন্তু ঘুম নেই সাগরদিঘির তৃণমূল কর্মীদের চোখে। জটলা জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজের সামনে। রণংদেহি মেজাজে হাজির সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসও। রাত যত গভীর হচ্ছে ততই উত্তেজনার মাত্রা বাড়ছে। অভিযোগ, স্ট্রংরুম জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজের সিসিটিভি নজরদারি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, বারবার স্ট্রংরুমের সিসি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরেই ঘটনাস্থলে এসে পদক্ষেপ করেন বাইরন বিশ্বাস। কমিশন, জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার-সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক জায়গায় মেল করেন তিনি। সময় উল্লেখ করে তাঁর দাবি, গভীর রাতে তিনবার বিকল হয়ে গিয়েছে স্ট্রংরুমের সিসিটিভি।
বিষয়টিকে 'চক্রান্ত' বলে দাবি করেছেন সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস।
শুধু সাগরদিঘিুতেই নয়, একই ঘটনা ঘটেছে রামপুরহাটের রামপুরহাট কলেজ ও ঘাটালের রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়েও। অভিযোগ তৃণমূল নেতৃত্বের। স্ট্রংরুমে কমিশনের কড়া নিয়মবিধি কেন লঙ্ঘিত হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসক দল।
বীরভিমের রামপুরহাট বিধানসভার স্ট্রংরুম রামপুরহাট কলেজ। তৃণমূলের অভিযোগ, শুক্রবার বিকেল ৩-৪টের মধ্যে সেখানে বেশ কয়েকবার লোডশেডিং হয়েছে। ফলে, সিসি ক্যামেরা বিকল হয়ে পড়ে। স্ট্রংরুমের সিসি ক্যামেরা নজরদারি সুরক্ষার জন্য বিকল্প আরও পোক্ত ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে, রামপুরহাটের তৃণমূল প্রার্থী আশিস ব্যানার্জির নির্বাচনী এজেন্ট মইনুদ্দিন হোসেন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের মেল করে বিষয়টি জানিয়েছেন।
ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ে তিন বিধানসভা কেন্দ্রের (ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, দাসপুর) ইভিএম রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, আজ, শনিবার দুপুর ১২.১৩ থেকে ১২.৩০ পর্যন্ত স্ট্রংরুমের সিসিটিভি কোনও কারণ ছাড়াই বন্ধ ছিল। বিষয়টিতে নজরদারির জন্য কমিশনকে মেলে জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
প্রশাসন একে ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’ বলে এড়িয়ে গেলেও মানতে নারাজ তৃণমূল শিবির। ইভিএম কারচুপির আশঙ্কায় স্ট্রংরুমের বাইরে ২৪ ঘণ্টার কড়া পাহারা বসিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে জঙ্গিপুরের স্ট্রংরুম ঘিরে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।
পাশাপাশি, ডোমকল গার্লস কলেজের স্ট্রংরুমে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের কড়া প্রহরা। তবুও কমিশনের নজরদারিতে সন্তুষ্ট নয় তৃণমূল, সিপিআইএম ও কংগ্রেস। নিজেদের উদ্যোগেই স্ট্রংরুমের বাইরে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে এই তিন দল।
উল্লেখ্য, ২৩ মার্চ ভবানীপুর বিধানসভায় তৃণমূলের কর্মীসভা করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সেখানে নেত্রী স্ট্রংরুমে লোডশেডিং আশঙ্কার কথা শুনিয়েছিলেন। সতর্ক করেছিলেন, গতবারের নন্দীগ্রামে গণনার বিষয়টিকে তুলে ধরে। তাঁর সাবধানবাণী ছিল,'সতর্ক থাকুন। ভোট শেষ হলেই বাড়ি যাবেন না। লোডশেডিং করে দিতে পারে। স্ট্রংরুমে নজর রাখবেন।'
















