আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। তৃণমূলের পর এবার বিজেপি। প্রকাশিত হল বিজেপির তারকা প্রচারকদের তালিকা৷ ভোটের ময়দানে কোমর বেঁধে নামতে একঝাঁক তারকা প্রচারকদের তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি। রবিবার প্রকাশিত ৪০ জনের এই তালিকায় যেমন রয়েছেন দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, তেমনই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিনোদন ও ক্রীড়াজগতের পরিচিত মুখদেরও।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে যাঁরা প্রচার করবেন তার তালিকার একদম প্রথমেই প্রত্যাশিতভাবে নাম রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তাঁর সঙ্গে ভোটপ্রচারে পশ্চিমবঙ্গ চষে বেড়াবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তালিকায় রয়েছেন, রাজনাথ সিং, নিতিন গড়করি, জেপি নাড্ডা, যোগী আদিত্যনাথ, অশ্বিনী বৈষ্ণব, স্মৃতি ইরানি, নিতিন নবীন, ধর্মেন্দ্র প্রধান, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, রেখা গুপ্তা, দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, মোহন চরণ মাঝি, মানিক সাহা, শিবরাজ সিং চৌহান, অশ্বিনী বৈষ্ণব, হেমা মালিনী, কঙ্গনা রানাউত। 

এঁদের পাশাপাশি প্রচারে ঝড় তুলছেন, অনুরাগ ঠাকুর, অন্নপূর্ণা দেবী, অর্জুন মুন্ডা, বাবুলাল মারাণ্ডি, সম্রাট চৌধুরী, মনোজ তিওয়ারি, ভূপেন্দর যাদব, সুনীল বনসল, বিপ্লব কুমার দেব, মঙ্গল পাণ্ডে, অমিত মালব্য, শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুর, রাজু বিস্তা, জয়ন্ত কুমার রায়, মনোজ টিগ্গা, বিজন গোস্বামী। 

বাঙালি আবেগকে ছুঁতে পদ্ম শিবিরের অন্যতম তুরুপের তাস ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী। পাশাপাশি চমক হিসেবে তালিকায় রয়েছেন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। 

অন্যদিকে, বিজেপির তারকা প্রচারকদের তালিকা প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে৷ সবুজ শিবিরের বক্তব্য, "বিজেপি-র ‘বি’ মানে আসলে ‘বহিরাগত’। বাংলায় ভোট লড়লেও এদের ৩০% প্রচারকও এ রাজ্যের নয়। বাইরে থেকে লোক এনে এদের শো চালাতে হয়। শমীক, শুভেন্দু বা দিলীপ ঘোষদের দশা দেখুন- দিল্লির পাঠানো নেতাদের নিচে এদের জায়গা। নিজেদের বিবেক বিক্রি করেও এরা দলের ভেতর দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। বিজেপি শুধু বাংলার মানুষেরই বিরোধী নয়, তারা নিজেদের দলের বাঙালিদের প্রতিও বিদ্বেষী।" 

?s=48

প্রসঙ্গত, ভোটের মুখে পঞ্চম প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি। শনিবার সন্ধ্যায় বিজেপির তরফে আরও পাঁচ আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হল। পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভের জেরে তিনটি আসনে প্রার্থী বদল করল বিজেপি। 

কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হলেন তারকনাথ চ্যাটার্জি, কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হলেন অনুপম বিশ্বাস, দমদম উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী হলেন সৌরভ শিকদার, মধ্যমগ্রামের প্রার্থী অনিন্দ্য রাজু ব্যানার্জি, উলুবেড়িয়া পূর্বের প্রার্থী হলেন রুদ্রপ্রসাদ ব্যানার্জি। 

তিন বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের ঘোষণাও করেছে বিজেপি। বসিরহাট উত্তরের নতুন বিজেপি প্রার্থী হলেন কৌশিক সিদ্ধার্থ, বিষ্ণুপুরে অভিজিৎ সর্দার, বেহালা পূর্বে শঙ্কর শিকদার। 

ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রথম দফায় ১৪৪ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল বিজেপি। এখনও পর্যন্ত মোট ২৯৩টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে তারা। শুধুমাত্র বাকি রয়েছে একটি কেন্দ্র। কলকাতা বন্দর আসনের প্রার্থী এখনও ঘোষণা করা হয়নি‌ বিজেপির তরফে।

প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে দফায় দফায় রাজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। কখনও সল্টলেকে বিজেপি দপ্তরে বিক্ষোভ, কখনও আবার বিজেপি প্রার্থী বয়কটের দাবি তুলে, কখনও বা বিজেপি প্রার্থীর পোস্টারে লাল কালির ক্রস দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। 

এমনকী সল্টলেকে বিজেপি দপ্তরে শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারীর পা ধরেও প্রার্থী বদলের জন্য কাকুতি মিনতি জানিয়েছেন বিজেপির কর্মী, সমর্থকরা। গত কয়েকদিন ধরে বিজেপি দপ্তরে পরপর একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী বদল করা নিয়ে বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়েছে পরিস্থিতি। হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে নেতৃত্বকে। যা নিয়ে চরম অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি। 

যখন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন কলকাতায় রাজ্য বিজেপি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং সেইসঙ্গে একাধিক সাংগঠনিক বৈঠকও রয়েছে সেই সময় এই বিক্ষোভে চরম অস্বস্তিতে পড়েছিল গেরুয়া শিবির। রাজ্য বিজেপি নেতাদের পক্ষ থেকে যারা বিক্ষোভ দেখান তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। যদিও তাঁরা প্রার্থী বদল নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত অনড়।