আজকাল ওয়েবডেস্ক: এই রাজ্যে সংবিধানের ৩৫৬ ধারা বা রাষ্ট্রপতি শাসন জারির কোনও ইচ্ছা বিজেপির নেই। শুক্রবার এই কথা জানালেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি এবং সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। এদিন সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে একথা জানিয়েছেন তিনি। 

এই প্রসঙ্গে শমীক জানিয়েছেন, "রাজ্যে ৩৫৬ ধারা জারি করার কোনও ইচ্ছা বিজেপির নেই।" প্রসঙ্গত, এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে বলেন, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছে। মুখে বলছে না। এদিন সেই বিষয়ে বলতে গিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে বিজেপির মনোভাব ব্যাখ্যা করে বলেন, রাস্তায় লোকজন জিজ্ঞাসা করেন এত কিছুর পরও কেন রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হচ্ছে না! শমীকের ব্যাখ্যায়, মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন তিনি বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাবেন। সেই জন্যই তিনি 'শহিদ' হতে চাইছেন এবং সেই কারণেই নানারকম কথা বলছেন। 

এদিন আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দলীয় ইস্তেহারে ১০টি বিষয় ঘোষণা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে যার নাম দেওয়া হয়েছে'বাংলার জন্য দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা।' যে প্রসঙ্গে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। 

রাজ্যবাসীর স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতি বছর রাজ্যের প্রতিটি ব্লক ও টাউনে আয়োজিত হবে 'দুয়ারে চিকিৎসা' শিবির। রাজ্য বিজেপির সভাপতি এই প্রসঙ্গে অভিযোগ করে বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী বলছেন দুয়ারে চিকিৎসা দেবেন। অথচ জেলা হাসপাতালে ওষুধ নেই। কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে যারা ওষুধ সরবরাহ করেন তাঁরা তাঁদের প্রাপ্য টাকাও পান না। সরকারি হাসপাতাল চিকিৎসাও দিতে পারছে না‌।" তৃণমূলের তরফে এদিন প্রকাশিত তাঁদের ইস্তেহারে ঘোষণা করেছে রাজ্যে 'বাংলার শিক্ষায়তন-এর অধীনে সমস্ত সরকারি স্কুলের সামগ্রীক পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। বিজেপির কটাক্ষ, ইতিমধ্যেই তো ৮,০০০-এর কাছাকাছি স্কুল রাজ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শমীকের অভিযোগ, ঘরে ঘরে যে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে ‌দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে তার কাজ দেশের অন্য রাজ্যে হয়ে গেলেও এই রাজ্যে শেষ হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়িয়ে যাবে।

শমীকের কথায়, এই রাজ্যে সমৃদ্ধি তখনই আসবে যখন রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ঠিক থাকবে এবং বিজেপি সরকার গঠন করলেই সেই পরিস্থিতি তৈরি হবে। 

এবিষয়ে রাজ্য বিজেপির সমালোচনা করে তৃণমূল নেতা এবং রাজ্যে দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, "বিজেপির আমলে আইন-শৃঙ্খলা এবং ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের সবচেয়ে ভালো উদাহরণ মানুষ দেখেছেন মনিপুরে। ডবল ইঞ্জিনের সরকার যেখানে চলছে সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ! ফলে বিজেপি সরকারে থাকলে আইন-শৃঙ্খলা কীরকম রাখেন সেটা হাথরস, উন্নাও, মনিপুর থেকে সারা ভারতবর্ষের মানুষ দেখেছেন। ফলে এই ধরনের ডায়লগ যেন শমীকবাবু তাঁর দলীয় অফিসে বসেই দেন। আর ইলেকশন কমিশন? তারা চেয়েছিল মমতা ব্যানার্জিকে সরিয়ে দিতে। এখনও পর্যন্ত সেটা সাংবিধানিকভাবে পেরে উঠছে না বলে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাংলার মানুষের মন থেকে মমতা ব্যানার্জিকে সরাতে পারবে না। সেটা আবার প্রমাণিত হবে এই বিধানসভা নির্বাচনেই।"