আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৪৮ ঘণ্টা আগে ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্র মিললেই ভোট দেওয়া যাবে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড় স্বস্তি পেলেন বিবেচনাধীন ভোটাররা। প্রথম এবং দ্বিতীয় উভয় দফাতেই কার্যকর হবে এই সিদ্ধান্ত।

এদিন দেশের শীর্ষ আদালত জানায়, এসআইআর মামলায় ১৪২ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল।

সুপ্রিম কোর্ট এদিন জানিয়েছে, ২৩ এপ্রিল অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটের ক্ষেত্রে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত নাম তোলার সময় পাবেন ভোটাররা। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে ট্রাইব্যুনালের ওপর।

ট্রাইব্যুনাল ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যাদের নামে ছাড়পত্র দেবে তারাই একমাত্র নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল যাদের নামে ছাড়পত্র দেবে তাঁরা দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশ নিতে পারবেন। তবে ট্রাইব্যুনালে যাদের নাম বাদ যাবে তারা এবারের ভোটে অংশ নিতে পারবেন না।

জানা গিয়েছে, ভোটের আগে ছাড়পত্র পাওয়া বিচারাধীনদের নাম ধাপে ধাপে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৪ এপ্রিল।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এদিন রাজ্যের শাসক দলের তরফে জানানো হয়, আজ সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে তৃণমূলের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। সেই দলে থাকবেন, অরূপ বিশ্বাস, নাদিমুল হক, শশী পাঁজা এবং সুদর্শনা মুখার্জি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে ভোটার তালিকা ফ্রিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে এটাই নিয়ম। তবে এবার ১৪২ ধারা প্রয়োগ করল নির্বাচন কমিশন।

শীর্ষ আদালত বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করার ফলে, যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনালে ছাড়পত্র পাবে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। তবে যাঁদের নাম বাদ যাবে তাঁরা এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে চলতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। বিশেষ করে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আপিলের শুনানির জন্য একটি আরও পোক্ত আপিল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বিচারপতি বাগচী উল্লেখ করেন, বিহারের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে অন্যভাবে এসআইআর করেছে নির্বাচন কমিশন। বাংলার ক্ষেত্রে কমিশন অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ নামে একটি নতুন ক্যাটাগরি চালু করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, বিহারে এসআইআরের সময় যাদের ২০০২ সালে এসআইআরে নাম ছিল তাদের পরে কোনও নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তাদের সেই পূর্ব অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, এসআইআরে নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক চাপ রয়েছে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিচারকদের ওপর। তাঁরা সবসময় ঠিক নাও হতে পারেন। প্রতিদিন হাজারেরও বেশি নথি যাচাই করতে গিয়ে তা ১০০% নির্ভুল হবে সেটা আশা করাও অবাস্তব।

নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া যদি যদি ৭০%ও নির্ভুল হয় সেটাও ‘অসাধারণ’ হবে। এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি বাগচীর বেঞ্চ একটি রিট পিটিশনের শুনানি করছিল, যেখানে আবেদনকারীরা ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানান।

আপিল মঞ্জুর হলে যাতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারেন সেই আবেদনও জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতের কাছে। এদিন নির্বাচনের কমিশনের আইনজীবীর ব্যাখ্যাতেও সন্তুষ্ট হয়নি সুপ্রিম কোর্ট।

আদালতের পর্যবক্ষণ, ‘এটা একে অপরকে দোষারোপের কোনও বিষয় নয়। দুই সাংবিধানিক সংস্থার মাঝে চাপে পড়তে হচ্ছে ভোটারদের।’ তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ১৯টি ট্রাইব্যুনালের ওপর লক্ষাধিক আপিলের নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব রয়েছে।