আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে ফের রাজনৈতিক অশান্তির আবহ। আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলামের গাড়িতে হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকাজুড়ে। অভিযোগ, দেউলি এলাকায় প্রচারে যাওয়ার সময় আচমকাই তাঁর গাড়ির ওপর চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। এই হামলায় গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আহত হন আইএসএফের বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ক্যানিং পূর্বের আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলাম দলীয় কর্মীদের নিয়ে দেউলি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে যাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই কিছু দুষ্কৃতী তাঁদের গাড়ির পথ আটকে দেয় বলে অভিযোগ। এরপরই শুরু হয় ভাঙচুর। লাঠি, ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা চালানো হয় গাড়ির ওপর। মুহূর্তের মধ্যে গাড়ির কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন কর্মী-সমর্থকরা। আইএসএফের দাবি, এই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের অভিযোগ, বিরোধী শক্তিকে ভয় দেখাতেই এই ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। আহত কর্মীদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকজনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দেউলি-সহ সংলগ্ন এলাকায়। ক্ষুব্ধ আইএসএফ কর্মীরা প্রতিবাদে বাসন্তী রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বসেন। রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। অবরোধকারীদের দাবি, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং আইএসএফ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, বারবার এভাবে হামলার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনার পর রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। আইএসএফ নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদলের মদতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, আইএসএফ নিজেদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা ঘটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। দীর্ঘক্ষণ বোঝানোর পর অবশেষে অবরোধ ওঠে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে খবর। দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যানিং পূর্বে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা বলাই বাহুল্য। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অভিযোগ-প্রতিঅভিযোগের পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ কার্যত আতঙ্কিত। ভোটের মুখে এ ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, নির্বাচনের সময় এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা নতুন কিছু নয়, তবে প্রতিবারই সাধারণ মানুষই এর বলি হন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলির উচিত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সব মিলিয়ে, দেউলিতে আইএসএফ প্রার্থীর গাড়িতে হামলার ঘটনায় ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত এই ঘটনার কিনারা করতে পারে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
















