আজকাল ওয়েবডেস্ক: মালদার মোথাবাড়িতে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই বীরভূমের বোলপুরে বিচারকদের নিরাপত্তা জোরদার করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। বোলপুর মহকুমা আদালতের দুইজন এসিজেএম বিচারপতির জন্য এবার মোতায়েন করা হয়েছে কড়া কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে অনেকেই সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় বলেই মনে করছেন।
জানা গিয়েছে, এই দুই বিচারপতি এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল হওয়ায় তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এই ধরনের দায়িত্বে থাকা বিচারকদের ওপর চাপ বা হুমকি আসার সম্ভাবনা থাকে, তাই আগাম সতর্কতা হিসেবেই এই ব্যবস্থা।
বর্তমানে প্রতিটি বিচারপতির নিরাপত্তার জন্য চারজন করে সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। শুধু আদালত চত্বরে নয়, তাঁদের বাসস্থানেও দিনরাত কড়া নজরদারি চলছে। সরকারি আবাসন হোক বা ব্যক্তিগত ফ্ল্যাট—সব জায়গাতেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি চোখে পড়ছে। প্রশাসনের দাবি, এই ব্যবস্থা বিচারকদের নির্ভয়ে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করবে।
জেলা পুলিশ সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদব জানিয়েছেন, প্রশাসন কোনওভাবেই ঝুঁকি নিতে চায় না। তাঁর কথায়, বীরভূম জেলায় যেসব বিচারক এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কর্মস্থল থেকে শুরু করে বাসস্থান পর্যন্ত সর্বত্র নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে নিরাপত্তা।
এই পদক্ষেপে স্বস্তি পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। বোলপুরের এক আবাসনের আবাসিক নরেন চক্রবর্তী বলেন, আমাদের আবাসনে একজন বিচারক রয়েছেন। সেই কারণে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এতে আমাদের আবাসিকদেরও স্বস্তি। কারণ, বিচারকদের নিরাপত্তা বাড়ানো মানে গোটা এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই কড়াকড়ির নেপথ্যে রয়েছে মালদার মোথাবাড়ির সাম্প্রতিক ঘটনা। সেখানে এসআইআর-এর কাজ শেষে ফেরার পথে একদল বিচারককে ঘিরে ধরে বিক্ষুব্ধ জনতা। তাঁদের গাড়িতে ইট ছোড়া হয়, এমনকি কনভয়ের একটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং চালক গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় একাধিক বিচারক, যার মধ্যে মহিলা বিচারকরাও ছিলেন, তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে এই ঘটনার তদন্তভার নেয় এনআইএ। তদন্তে উঠে এসেছে, বিচারকরা আগেই নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে এবার বোলপুরে আগাম নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই—বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যেন কোনও ভয় বা চাপ ছাড়াই তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কারণ, বিচারব্যবস্থা সুরক্ষিত থাকলেই আইনের শাসন বজায় থাকবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মালদার ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে বীরভূমে যে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে, তা শুধু বিচারকদের জন্য নয়, গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা ফেরানোর দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
















