আজকাল ওয়েবডেস্ক: বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটাররা যাতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে শান্তিতে এবং নিরুপদ্রবে ভোট দিতে পারেন তা নিশ্চিত করতে এবার 'ব্যক্তিগত' হেল্পলাইন নম্বর চালু করলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী।
সোমবার বহরমপুরের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীরবাবু ৪ টি মোবাইল ফোন নম্বর জানিয়ে দেন এবং আগামী ২৩ এপ্রিল নির্বাচনের দিন বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কোনও এলাকায় কোনও ব্যক্তি ভোট দিতে যেতে না পারলে ওই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলে কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
১৯৯৬ সালের পর ২০২৬ সালে ফের একবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অধীর চৌধুরী। মাঝে ১৯৯৯-২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে পরাজয়ের পর রাজনীতিতে কিছুটা 'নিষ্ক্রিয়' ছিলেন অধীর চৌধুরী। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেসের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটি অধীর চৌধুরীর উপরেই ভরসা রেখেছে।
অধীর নিজে যেমন কংগ্রেসের প্রতীকে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন, তেমনই মুর্শিদাবাদ জেলার বাকি ২১ টি কেন্দ্রে কোথায় কে প্রার্থী হবে তা একপ্রকার নিজের হাতে ঠিক করেছেন। রোজ সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত বহরমপুর বিধানসভার অলিগলি জুড়ে যেমন তিনি নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন, তেমনই জেলার বাকি কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থনেও তাঁকে বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে প্রচার করতে দেখা যাচ্ছে।
তবে অধীরের নিজের 'গড়' বহরমপুর শহরে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময়ে কমপক্ষে দু'বার তাঁকে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ- সারা বছর অধীর চৌধুরীকে বহরমপুরবাসী নিজেদের পাশে পায়নি। ভোটের সময় তিনি রাজনীতি করতে নেমেছেন। অধীর চৌধুরীকে ঘিরে বিক্ষোভের পর ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে তাঁর নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীর সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বহরমপুর শহরে নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে অধীর চৌধুরী একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে ভোটারদেরকে ভয় দেখানো হচ্ছে। সোমবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, মুর্শিদাবাদ জেলার সালার, রানিনগর, রঘুনাথগঞ্জ-সহ বিভিন্ন এলাকায় নিচু তলার পুলিশ কর্মীরা কংগ্রেস কর্মীদেরকে ভয় দেখাচ্ছেন। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন এবং যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন না।
অধীরের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করার চেষ্টা করলেও নিচু তলার পুলিশ কর্মীরা এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের হয়েই কাজ করছেন। তবে তিনি আশাবাদী কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরপেক্ষ হয়েই কাজ কাজ করবে এবং ভোটের দিন কাউকে 'রংবাজি' করতে দেবে না।
তিনি বলেন, "২৩ এপ্রিল ভোটের দিন যাতে সর্বস্তরের মানুষ কোনও বাধা ছাড়া আমার বিধানসভা কেন্দ্রে (পড়ুন বহরমপুর) ভোট দিতে পারেন তা সুনিশ্চিত করতে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হল। হেল্পলাইনে মোট চারটি নম্বর মোবাইল ফোন নম্বর থাকছে। ভোটের দিন বহরমপুর বিধানসভায় এলাকার কোনও বুথে যেতে গিয়ে কোনও ভোটার যদি বাধা পান তাহলে ওই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলে আমাদের তরফ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যা করার আমরাই করব।"
অন্যদিকে অধীর চৌধুরী হেল্পলাইন নম্বর চালু করার সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে বহরমপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখার্জি বলেন, "কীভাবে শান্তিতে ভোট করতে হবে তার জন্য ওঁর জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দেওয়ার দরকার নেই। বহরমপুর শহরে প্রতি নির্বাচনেই প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়ে থাকেন। এখানে নির্বাচনের আগে বা পরে কোনও সন্ত্রাস হয় না। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে কোনও ভোট সন্ত্রাস হয়নি। উনি সাধারণ মানুষকে গাল গল্প দিয়ে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন।"















