আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার সকালে সাত মিনিটের বৈঠকের পরই তৃণমূল প্রতিনিধি দলকে বেরিয়ে যেতে বলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এমনটাই দাবি করলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। তিনি এদিন আরও বলেন, আমরা সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল। সেখানে তৃণমূলের চার সাংসদকে বেরিয়ে যেতে বলেন জ্ঞানেশ কুমার। যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে সেবিষয়ে কথা বলতেই এদিন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল যান জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে। এরপরই সেখান থেকে বেরিয়ে এসে এই দাবি করেন ডেরেক ও ব্রায়েন।

 

?ref_src=twsrc%5Etfw">April 8, 2026


প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটের মুখে ফের সম্মুখসমরে তৃণমূল কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা রক্ষা এবং পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সোমবার ও মঙ্গলবার পরপর জোড়া স্মারকলিপি জমা দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের মূল অভিযোগ, বাংলার স্পেশাল পুলিশ অবজার্ভার হিমাংশু লাল অফিশিয়াল চ্যানেল এড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘বেআইনি’ নির্দেশ দিচ্ছেন। দলীয় সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এই মর্মে দিল্লির মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।


সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের সই করা চিঠিতে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ৫ এপ্রিল থেকে পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বেআইনি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ব্লক-১ এলাকায় শেখ আব্দুল আলিম আলরাজির মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বকে গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে ঘরছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের দাবি, রাতের অন্ধকারে কোনও পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশি তল্লাশি এবং মহিলাদের হেনস্থা করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এই দমনপীড়ন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছে রাজ্যের শাসক দল।

 

&t=546s
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রধান দাবি, বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিমাংশু লালকে অবিলম্বে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করতে হবে এবং পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের ওপর একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করতে হবে। পাশাপাশি, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যাতে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত না করে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশিকা জারির দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে ডেরেক ও’ব্রায়েন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কমিশন তাঁদের সাক্ষাতের আবেদন না শুনলে সাকেত গোখলে ও মণিকা গুরুস্বামীদের নিয়ে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কমিশনের দপ্তরের সামনে ধরনায় বসবেন তাঁরা।