আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবার ঋণ শোধের পালা। ২০১৫ সালে স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে জেতাতে সুতির মহেশাইল-২ পঞ্চায়েতে যে প্রচারের ময়দানে ঝাঁপিয়েছিলেন বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস, সেই দায়িত্ব এবার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন শাহনাজ। সুতির দু'বারের বিধায়ক ইমানি বিশ্বাসের এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছেন তাঁর স্ত্রী শাহনাজ বেগম। 

সুতি-২ পঞ্চায়েত সমিতির পরপর দু’বারের সভাপতি শাহানাজ, সংসারের কাজ সামলে মহিলা কর্মীদের নিয়ে বিড়ি মহল্লার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছেন, ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, মমতা ব্যানার্জির জনমুখী প্রকল্পের সুফল তুলে ধরে তৃণমূলের জোড়া ফুলে ভোট চাইছেন। লক্ষ্য একটাই—মহিলা ভোটারদের মন জয় করা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইমানি বিশ্বাস ২০১১ সালে সুতি বিধানসভায় কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন। দু’বছর পর দলবদল করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং ২০১৬ সালে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে পরাজিত  হন। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাহনাজ বিবি তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নির্বাচিত হন, এরপর পরপর দু’বার সুতি-২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে রয়েছেন।

জঙ্গিপুর মহকুমা বিড়ি-অধ্যুষিত এলাকা। এখানে প্রায় ১২ লক্ষ বিড়ি শ্রমিক রয়েছেন, যাঁদের বেশিরভাগই মহিলা। হস্তচালিত কুটিরশিল্প ‘বিড়ি’ই এই মহকুমার অর্থনীতির মূল ভিত। তাই এবার মহিলা ভোটারদের মন জয় করতেই ভোট প্রচারের ময়দানে নামলেন বিধায়কের স্ত্রী স্বয়ং।

সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বামীকে চা বানিয়ে দেওয়া—এটাই শাহনাজের রোজকার রুটিন। স্বামী ন’টায় প্রচারে বেরোনোর আগে টিফিন গুছিয়ে দুপুরের রান্না সেরে তিনি মহিলা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিড়ি মহল্লায় পৌঁছে যাচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলা বিড়ি শ্রমিকদের কথা মন দিয়ে শুনছেন, তৃণমূলের ‘জোড়া ফুল’ চিহ্নে ভোট দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির জনমুখী প্রকল্প—লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতার সুফলই তাঁর প্রচারের প্রধান হাতিয়ার। 

শাহনাজ বেগমের  কথায়, “যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে এসে মানুষের হয়ে কাজ করছি। সংসার সামলে এবারের নির্বাচনের প্রার্থী স্বামীর প্রচারে মাঠে-ময়দানে নেমেছি।”

রাজনৈতিক সহযোদ্ধা স্ত্রীকে পাশে পেয়ে স্বস্তি পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী ইমানি বিশ্বাস। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবার বিড়ির ব্যবসায়ী ছিল। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরিবারের কেউ কখনও জড়িত ছিল না, তবে সমাজসেবার সঙ্গে আমরা বরাবর যুক্ত ছিলাম। ২০১০ সালে আমি প্রথম সক্রিয় রাজনীতিতে আসি, ২০১১ সালে বিধায়ক হই। মানুষের জন্য কাজ করে চলেছি। আমার পথে অনুপ্রাণিত হয়ে স্ত্রী পঞ্চায়েত নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জয়ী হয়ে পরপর দু’বার সভাপতি হয়ে কাজ করছেন। সুতির উন্নয়ন এখন আমাদের কাঁধে।” 

তিনি আরও বলেন, "শুধু আমার স্ত্রী নয়, দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও আমার জন্য ভোট প্রচারে নেমেছেন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে রাজ্যের মহিলাদের কথা ভাবেন অন্য কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই রকম চিন্তা ভাবনা করেন না।" তার কথায়, "আমাদের জনদরদী মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের সম্মান জানানোর জন্যই মাসে দেড় হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করেছেন।"
 
স্ত্রী'র প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "ভোট প্রচারে বেরোলেও আমার খাবার-দাবারের বিষয় আমার স্ত্রী যথেষ্টই যত্নশীল। সকালবেলা তিনি আমার খাবার তৈরি করে দিয়ে তারপরেই ভোট প্রচারে বের হন। আমিও তাঁর তৈরি খাবার খেয়েই ভোট প্রচারে বের হই। আবার কখনও কখনও রাস্তাতে কোনও কর্মীর বাড়িতেও দুপুরের খাবার সেরে নিই। আমি আমিষ, নিরামিষ দু'রকম খাবার খেতেই পছন্দ করি।" 

নিজের জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হয়ে বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস বলেন, "আমার বিধানসভায় বিরোধী বলে কেউ আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। কারণ আমি সারা বছরই সাধারণ মানুষের পাশে থাকি এবং তাঁদের জন্য কাজ করি। আর এলাকার মানুষও আমাকে ভীষণ ভালবাসে। তাই সুতি বিধানসভা এলাকায় জয় নিয়ে আমি দ্বিধাগ্রস্থ নই বরং সম্পূর্ণ  নিশ্চিত।"