আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বনাথ পারিয়াল। নামটা শুধু শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গোটা রাজ্যে রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিদের কাছেই তিনি কমবেশি পরিচিত। ১৯৯৭ সালে প্রথম জাতীয় কংগ্রেসের হয়ে জিতে কাউন্সিলর হন। তারপর তৃণমূলে যোগ। ২০০২ সাল থেকে পর পর তিন বার কাউন্সিলর পদে থাকা। পর পর চারবার কাউন্সিলর হওয়ার পর বিধানসভায় তৃণমূলের হয়ে টিকিট না পাওয়ায় ২০১৬ সালে বাম সমর্থিত জাতীয় কংগ্রেসের হয়ে দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব মুখার্জিকে হারিয়ে জিতে যান বিশ্বনাথ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সেই সময় প্রচারে এসে গান্ধীমোড় মাঠে বিশ্বনাথ পারিয়ালকে 'গদ্দার' বলেছিলেন। 

তার ঠিক তিন মাস পরে আবার তৃণমূলে চলে যান বিশ্বনাথ। কিন্তু তারপর থেকে সেইভাবে তাঁকে সক্রিয়ভাবে তৃণমূল করতে দেখা যায় নি। কারণ, তাকে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে মেনে নিতে চাননি। ২০২৬ এর নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে টিকিট না পাওয়ায় অবশেষে বিজেপিতে যোগদান করলেন বিশ্বনাথ।

বিশ্বনাথ বিজেপিতে যাবেন সেটা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই চর্চা শুরু হয় শিল্পাঞ্চল জুরে। এই জল্পনার অবসান হল শনিবার দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারে সুকান্ত মজুমদারের হাত থেকে পতাকা নিয়ে। তবে বিশ্বনাথ পারিয়ালের বিজেপিতে যোগ দেওয়া কতটা কার্যকরী হবে সেটা বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরনোর পর বোঝা যাবে। কারণ, ২০১৭ সালে দুর্গাপুর নগর নিগমের পুরসভা নির্বাচনের পর ২০২২ সালে নির্বাচন হয়নি। এই বিধানসভা নির্বাচনের পর অবশ্যম্ভাবী নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে কী ভূমিকা পালন করে বিশ্বনাথ পারিয়াল করে সেটাই এখন দেখার।