আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের সংবিধান অলংকরণের শিল্পী নন্দলাল বসুর পরিবারের সদস্যের নাম বাদ পড়েছে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা থেকে। তারপরে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টেও ডিলিটেড আসায় তাঁর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন দ্বারস্থ হন সুপ্রিম কোর্টের।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার কমিশনকে বিশেষ নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। এদিন শীর্ষ আদালতে প্রবীণ আইনজীবী জয়দীপ গুপ্তা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চকে গোটা পরিস্থিতির কথা জানান।

আদালত আবেদনকারীকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়ার অনুমতি দেয়। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, এই নিষ্পত্তিতে যেন পূর্ণ সহযোগিতা করে আপিল ট্রাইব্যুনাল।

পাশাপাশি, যেন যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার নিষ্পত্তি করা হয়। এই ঘটনার পর সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সুপ্রবুদ্ধ সেন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি নতুন ভোটার তালিকায় নিজের নাম ‘ডিলিটেড’ দেখে বিস্মিত। কেন এমন হল তা জানেন না।

তাঁর কথায়, তিনি তো জানেন তিনি এখানকার বাসিন্দা। তাহলে তাঁকে বাদ দেওয়া হল কেন? এর জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই দিতে পারবেন। তিনি আরও জানান, তাঁর বয়সের কারণে নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক কয়েকজনকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে এসে নথি যাচাই করে গিয়েছিলেন।

তিনি ১৯৫৪ সালের ম্যাট্রিকুলেশন সার্টিফিকেট দেখিয়েছেন। দীর্ঘ ৩২ বছর দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন-এ চাকরি করার তথ্যও দিয়েছেন, তবুও নাম বাদ পড়েছে।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমার মামাবাড়ির পরিচয় আমার মা যমুনা সেন। তাঁর বাবা হলেন আচার্য নন্দলাল বসু। তিনি কে তা আর নতুন করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে, সুপ্রবুদ্ধবাবুর স্ত্রী দীপা সেন বলেন, সমস্ত নথি দেখানোর পরেও তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন তা কেউ জানায়নি। তাঁর কথায়, তাঁদের কাছে এর কোনও স্পষ্ট কারণ তুলে ধরা হয়নি।

ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে তাঁর তেমন কিছু বলার নেই বলেও জানান তিনি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁদের প্রজন্মের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল নতুন প্রজন্মের ভোটাধিকার। তাঁর মতে, তাঁদের ভোট না দিলেও চলবে, কিন্তু তাঁদের ছেলের মতো তরুণদের জন্য ভোটার কার্ড থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, এটি নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ। একদিকে ভিনরাজ্য থেকে ভুয়ো ভোটার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ, অন্যদিকে বাংলার প্রকৃত বাসিন্দাদের নামই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া—এই দ্বৈত প্রবণতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তারা।

এই বিতর্কের মধ্যেই শান্তিনিকেতনের বুদ্ধিজীবী মহলেও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। প্রবীণ আশ্রমিক, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষরা এই ঘটনাকে শুধু প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক অসম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সংবিধানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি পরিবারের সদস্যদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।