আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ঘটনার সূত্রপাত স্বপ্নার রাজনৈতিক যোগ নিয়ে। জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ বিধানসভায় দীর্ঘ টালবাহানার পর এবারের তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি হিসেবে নাম ঘোষণা হয় অ্যাথলেটিক স্বপ্না বর্মনের। নাম ঘোষণা হতেই অবশ্য রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় প্রথমে বিরোধিতা করে নিজের পথ ছেড়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি জানায়। 


পরবর্তীতে সেই জট কাটে মুখ্যমন্ত্রীর ফোন কলের মাধ্যমে। আর এদিকে রেলে কর্মরত থাকা অবস্থায় তৃণমূলের হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অভিযোগে স্বপ্না বর্মনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের মামলা শুরু হয়। রেলের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।


আদালতে মামলার টানাপোড়েনের পর অবশেষে স্বপ্না বর্মন নিজের দোষ স্বীকার করে রেলকে লিখিত বয়ান জমা দেন। তিনি জানান, অনিচ্ছাকৃতভাবে তিনি নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন এবং স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়তে চান। এমনকি ভবিষ্যতে রেলের কোনও সুবিধাও তিনি দাবি করবেন না বলে স্পষ্ট করে দেন।


স্বপ্নার এই আবেদনের ভিত্তিতেই তড়িঘড়ি রাতে তাঁকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় রেল। ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল সুদীপ্ত মজুমদার জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে সঠিক বয়ান জমা পড়তেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে স্বপ্নার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন নিশ্চিত। 

 


দলীয় সূত্রে খবর, স্বপ্না বর্মনের নমিনেশন নিয়ে আর কোনও বাধা রইল না। রাজগঞ্জ বিধানসভায় স্বপ্না বর্মন বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আসছেন এমনটাই দাবি। তবে গোটা ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আপাতত সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনওরূপ মন্তব্য করবেন না রাজগঞ্জ বিধানসভার এই তৃণমূল প্রার্থী। এনিয়ে রাজগঞ্জ বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে ফোন করা হলে তিনি এবিষয়ে পরবর্তীতে মন্তব্য করবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন।