আজকাল ওয়েবডেস্ক:  বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। কোচবিহারে বিজেপির প্রচারে এসে তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে শাসকদল।

তৃণমূলের অভিযোগ, ১৬ এপ্রিল কোচবিহারের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মা সাম্প্রদায়িকভাবে বিভাজনমূলক ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। ১৭ এপ্রিল পাঠানো চিঠিতে তৃণমূল দাবি করেছে, তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক ইঙ্গিত ছিল, যা ভোটের পরিবেশকে উত্তপ্ত করতে পারে।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-কে লক্ষ্য করে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর মন্তব্যও করা হয়েছে ওই সভায়। তৃণমূলের মতে, এই ধরনের বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী নয়, বরং আইনগত দিক থেকেও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।

তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে, এই ঘটনা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন-এর বিভিন্ন ধারার আওতায় পড়তে পারে। সেই কারণেই দলের পক্ষ থেকে হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস জারি, কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে এফআইআর দায়েরের দাবি জানানো হয়েছে।

তৃণমূলের বক্তব্য, নির্বাচনের মুখে এই ধরনের ভাষণ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে পারে এবং বিষয়টি ভোটারদের প্রভাবিত করার অপচেষ্টা হিসেবেই দেখা উচিত। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপি বা হিমন্ত বিশ্বশর্মার তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর।

নির্বাচনের আগে এই ধরনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রদায়িক ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।