আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় এসআইআরের দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরোনোর পর এবার বাদ পড়েছে প্রাক্তন সাংসদের নাম। এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ তরুণ মণ্ডলের নাম এসআইআর লিস্টে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনাধীন থাকার পর সম্পূর্ণভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে শনিবার দুপুরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে এসইউসিআইয়ের তরফে।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দেবাশিস রায় এবং প্রাক্তন সাংসদ তথা রাজ্য কমিটির সদস্য অজয় চ্যাটার্জি। প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে পরিচয়পত্র, পিপিও, কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ ‘এ’ অফিসার হিসেবে চাকরির নথি সহ মোট প্রায় এক ডজন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জমা দেওয়া হয় এদিন নির্বাচন কমিশনের কাছে।
সিইও-র পক্ষ থেকে ওএসডি প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আর কিছু করার নেই। এখন একমাত্র ট্রাইব্যুনালে আপিল করাই উপায়।
জানা গিয়েছে, ডেপুটেশনের কপি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, লোকসভার স্পিকার এবং ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছেও পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, এসইউসিআইয়ের রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকেও একাধিক অভিযোগ তুলে অ্যাডিশনাল সিইও দিব্যেন্দু দাসের কাছে আলাদাভাবে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে।
সেখানে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া, ট্রাইব্যুনালের কার্যালয় নির্ধারণ না করা, নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের পুনরায় আবেদন গ্রহণের তারিখ ঘোষণা না করা, সাপ্লিমেন্টারি তালিকা দিনের বেলা প্রকাশ না করা এবং ব্লক ও বুথ স্তরে তালিকা না দেওয়া নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
এসইউসিআইয়ের তরফে আরও অভিযোগ, জয়নগর-কুলতলি সহ বিভিন্ন এলাকায় শাসক দলের তরফে দেওয়াল লিখন মুছে ফেলা এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, অবজার্ভার সহ সমস্ত স্তরের আধিকারিকদের নাম ও ফোন নম্বর রাজনৈতিক দলগুলিকে জানানো এবং সকল বৈধ ভোটার যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন তার ব্যবস্থা করার দাবিও তোলা হয়েছে।
ডাঃ তরুণ দাস আজকাল ডট ইনকে ফোনে জানান, ‘আমরা যেটা মূল বিষয় জানিয়েছি সেটা হল এই যে আমি আজ যাবতীয় নথি জমা দিলাম সেরকমই বাংলা জুড়ে প্রচুর মানুষ আছেন তাঁরাও এই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। কী কারণে বাদ গেল তার কোনও কারণ উল্লেখ তো করা নেই। যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে শুধু ডিলিটেড বলে লেখা হয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করাতেও কমিশন কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করতে। সেই ট্রাইব্যুনাল তো তৈরিই হয়নি এখনও। কোথায় হবে, কবে থেকে কাজ শুরু হবে সে সম্পর্কেও কেউ কিছু বলতে পারলেন না। শুধু বললেন, হলে আপনাদের সবাইকে জানানো হবে সকলকে।’
তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন তো আসন্ন, তাহলে ট্রাইব্যুনাল তৈরি না হলে তো এই সব নাম বাদ চলে যাবে।’ প্রাক্তন সাংসদের কথায়, ‘নাম বাদ গেলে ফর্ম-৬ আবেদন করার জায়গা রয়েছে। কমিশন থেকেও আমাদের সেটাই বলা হয়েছে। সেটাই আপাতত আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ। আমি প্রাক্তন সাংসদ, তার আগে ২১ বছর কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রেড ওয়ান অফিসারের চাকরি করে ভলেন্টিয়ারি রিটায়ারমেন্ট নিয়েছি। ফলে, আমি সরকারের আমি এমন অনেক সুবিধা পাই যেটা অনেকে পান না। সেখানে আমার নাম যদি এভাবে বাদ দেওয়া হয় তাহলে যাঁরা সাধারণ মানুষ আছেন তাঁদের কী অবস্থা হবে?’















