আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া এক প্রিসাইডিং অফিসার নিজেই যখন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত সমস্যাই নয়—গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেয়। এমনই এক ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদে।
স্থানীয় বাসিন্দা তৈবুর শেখ, যিনি আসন্ন নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য নিযুক্ত হয়েছেন, হঠাৎ করেই জানতে পারেন যে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর নাম আগে ‘বিচারাধীন তালিকা’-য় রাখা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেছেন।
এই বিষয়ে টেলিফোনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে স্পষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেন তৈবুর শেখ। তিনি বলেন, “আমার নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সত্যিই আমি খুব আতঙ্কিত। আমি নিজেই প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নির্বাচনের কাজে ডিউটি করছি, অথচ আমার নিজেরই নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গেল—এটা ভেবে আমি দিশেহারা।”
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি তিনি যথাসময়ে জমা দিয়েছিলেন। এমনকি জমা দেওয়ার রিসিভ কপিও তাঁর কাছে রয়েছে। তবুও কীভাবে তাঁর নাম ‘বিচারাধীন তালিকা’-য় চলে গেল এবং পরে সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়ল, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে আমার আবেদন, আমার নাম যেন দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হয়। কমিশন জানিয়েছে বিষয়টি ট্রাইবুনালে যাবে এবং সেখানে সিদ্ধান্ত হবে। এখন আমরা সেই ডাকার অপেক্ষায় আছি।”
তৈবুর শেখের অভিযোগ, এই সমস্যা শুধু তাঁর একার নয়। তাঁর এলাকার বহু যোগ্য ভোটারের নামও একইভাবে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
“আমাদের এলাকায় অনেকেরই নাম চলে গেছে, অথচ সবাই সঠিক তথ্য জমা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে আমরা সবাই খুবই চিন্তিত,”—বলেছেন তিনি।
এই ঘটনা সামনে আসতেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষত, যিনি নিজেই ভোট পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁর নাম যদি তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়, তাহলে সাধারণ ভোটারদের অবস্থাটা কী—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ট্রাইবুনালে শুনানি হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ততদিন পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
ঘটনাটি ইতিমধ্যেই এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকেই দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং সমস্যার সমাধানের দাবি তুলেছেন, যাতে যোগ্য কোনও ভোটারই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।















