ইন্দ্রজিৎ রায়: বোলপুর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিনহা। তাঁর দাবি, এদিনও (শনিবার) দলের সেনাপতি অভিষেক ব্যানার্জি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন—জেলার দায়িত্ব ভবিষ্যতে অনুব্রত মণ্ডলকেই নিতে হবে। চন্দ্রনাথের এই মন্তব্যকে ঘিরে বোলপুরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁধগোড়া বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, দলের জেলা সংগঠন নিয়ে এখনও ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল।
এদিনে প্রচারে নিজের বক্তব্যে চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, বিজেপি বারবার দিল্লি থেকে বাংলাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে এবং রাজ্যের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে। সেই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে ঐক্যের বার্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর কথায়, বাংলায় সব ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করে, আর সেই ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা চলছে বলেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।
এই প্রসঙ্গে শনিবার লাভপুরের ফুল্লরাতলার মাঠে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ সিনহার সমর্থনে অনুষ্ঠিত জনসভাকেও টেনে আনেন চন্দ্রনাথ সিনহা। ওই সভায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল, রামপুরহাটের প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। সভার পর আলাদাভাবে অনুব্রত মণ্ডল ও চন্দ্রনাথ সিনহার সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় অভিষেক ব্যানার্জিকে। সেই ঘটনাকে উল্লেখ করেই চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুব্রতের প্রতি আস্থা এখনও অটুট।
তিনি আরও দাবি করেন, বীরভূমে তৃণমূলের সংগঠনকে মজবুত করার ক্ষেত্রে অনুব্রত মণ্ডলের অবদান অনস্বীকার্য। দীর্ঘদিন ধরে জেলা রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব এবং সংগঠন গড়ে তোলার ভূমিকা দল কখনও অস্বীকার করে না। এমনকি, কঠিন পরিস্থিতিতেও দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য অটুট রয়েছে বলেই মনে করছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। বিভিন্ন সময়ে অনুব্রত মণ্ডল নিজেও দাবি করেছেন, দলত্যাগের সুযোগ থাকলেও তিনি তা করেননি এবং দল ও নেতৃত্বের প্রতি তাঁর বিশ্বাস অটুট রেখেছেন।
এদিনের সভা থেকে চন্দ্রনাথ সিনহা তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন। অনুব্রত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকেও আমাদের দলের সেনাপতি অভিষেক ব্যানার্জি তাঁকে অর্থাৎ অনুব্রত মণ্ডলকে বলে গেছেন যে তোমাকেই এবার পরে দায়িত্ব নিতে হবে। তাই, আসুন আমরা ওঁর সম্মানে, (পড়ুন অনুব্রতর সম্মানে) ব্যাপকভাবে তৃণমূলকে জয়ী করি। কারণ, এই ওয়ার্ড সবসময় তৃণমূল কংগ্রেসকে এগিয়ে রাখে। এবার চাইব যে আরও যাতে বেশি ভোট হয়। আপনারা সবসময়ই জোড়াফুলের পক্ষে থেকেছেন এবং এবারও আশা করি তার ব্যতিক্রমী হবেন না। পাশাপাশি কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি নির্দেশ দেন, ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে পার্টি অফিসে জমা দিতে হবে, যাতে তাঁরা পুনরায় ভোটাধিকার ফিরে পান।
সব মিলিয়ে, অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে দলের আস্থা এবং তাঁর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কতটা সংগঠনকে একত্রিত করতে পারেন এবং দলকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।















