আজকাল ওয়েবডেস্ক:  পশ্চিমবঙ্গে চলতি বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন চরমে, তখনই উচ্চহারে ভোটদানের হারকে সামনে রেখে বড় দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর মতে, এই বাড়তি ভোটদান স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে রাজ্যের মানুষ বর্তমান শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাইছেন এবং এর ফলে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনাই বাড়ছে।


উত্তরপ্রদেশে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বঙ্গের মানুষ এখন নির্ভয়ে ভোট দিচ্ছেন। গত ছয়-সাত দশকে যা অকল্পনীয় ছিল, এখন তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনের ছবি এবং বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করছে যে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে।


দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন বিভিন্ন বুথে উল্লেখযোগ্য ভোটদানের হার লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম দফার মতোই এবারও ভোটারদের উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একাধিক জায়গায় বিচ্ছিন্ন অশান্তির খবর এলেও সামগ্রিকভাবে ভোটদানের হার বেশ উঁচুতে রয়েছে। প্রথম দফায় যেখানে প্রায় ৯৩.১৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল, এবারও সেই হার ছুঁতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “মানুষ ভয় ছাড়াই ভোট দিচ্ছেন—এটাই আমাদের সংবিধানের শক্তি এবং গণতন্ত্রের দৃঢ়তার প্রতীক।” তিনি বাংলার জনগণকে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বাকি ভোটারদেরও একই উদ্যমে ভোট দিতে আহ্বান জানান।


রাজনৈতিক ময়দানে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সরাসরি লড়াই চলছে। উভয় দলই মনে করছে, ভোটদানের এই প্রবণতা তাদের পক্ষেই যাবে। বিশেষ করে, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন-এর পর এই প্রথম বড় নির্বাচন হওয়ায় ফলাফল নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে।


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এই পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপি ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক করতে চলেছে বলে আমি আত্মবিশ্বাসী। ৪ মে-র ফলাফল উন্নত ভারতের লক্ষ্যে আমাদের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের উন্নয়নের গতিতে নতুন উদ্দীপনা যোগাবে।”


তবে বিরোধী শিবির এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করেছে। তাদের মতে, উচ্চ ভোটদানের অর্থ পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের অংশগ্রহণের বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, বিভিন্ন জায়গায় ভোট চলাকালীন অশান্তি ও চাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

 

&t=26s
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনী লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। উচ্চ ভোটদানের হার, রাজনৈতিক তরজা এবং ভোট-পরবর্তী সম্ভাব্য ফলাফল—সবকিছু মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।