আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির আগে শেষ মুহূর্তে শুক্রবার লোকসভায় সাংসদদের উদ্দেশ্যে মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করার অনুরোধ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বিলের পক্ষে সমর্থন জানানোর অনুরোধ করে মোদি বলেন, ‘কোটি কোটি মহিলা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন।’ শুক্রবার সন্ধ্যায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে সাংসদে ভোটাভুটি হতে চলেছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, সংসদে বর্তমানে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এ সংশোধন নিয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ভুল ধারণা দূর করতে সমস্ত উত্তর পেয়েছেন বিরোধীরা। বহস্পতিবার লোকসভায় বিতর্ক চলাকালীন সমস্ত উদ্বেগের বিষয় সম্পর্কেও স্পষ্ট করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার প্রস্তাবিত আসন পুনর্বাসন বিল বা ডিলিমিটেশন বিলের সঙ্গে এই সংরক্ষণকে যুক্ত করেছে। লোকসভা আসনের পুনর্বিন্যাস ও সংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে সংরক্ষণ কার্যকর হওয়া।

তবে সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকারের একার পক্ষে বর্তমানে নেই। বৃহস্পতিবার সংসদে দীর্ঘ আলোচনার পর শুক্রবার বিকেল প্রায় ৪টে নাগাদ লোকসভায় এই বিলটি নিয়ে ভোটাভুটির জন্য পেশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

শেষ মুহূর্তে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক কারণে কয়েক দশক ধরে মহিলাদের সংরক্ষণের বিষয়টি বিলম্বিত হয়েছে। দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মহিলা হওয়া সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব এখনও নিশ্চিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার এত বছর পরেও এই ক্ষেত্রে মহিলাদের সীমিত প্রতিনিধিত্ব থাকা ঠিক নয়।’ সব রাজনৈতিক দলকে সংবেদনশীলতা বজায় রেখে এই সংশোধনী বিলকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘কোটি কোটি মহিলা আমাদের উদ্দেশ্য ও সিদ্ধান্ত লক্ষ্য করছেন।’ ২০২৩ সালের মহিলাদ সংরক্ষণ আইন মূলত সংসদে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের নিয়ম এনেছে।

বৃহস্পতিবার এই বিল কার্যকর করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। তবে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, সংশোধনী এই বিলটি কার্যকর করতে আইনের বাস্তবায়ন প্রয়োজনীয় হলেও, তা এখনও সংবিধানের অংশ হিসেবে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়নি।

১৬ এপ্রিল থেকে এই আইনের কয়েকটি ধারা কার্যকর হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত কারণ দেখিয়ে বর্তমানে বিদ্যমান লোকসভায় এই সংরক্ষণ প্রয়োগ সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাশ করানো হয়। যার লক্ষ্য ছিল লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা। এই আইনে এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের নিয়ম রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জনগণনার পর ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে না। ফলে ২০৩৪ সালের আগে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে তিনটি বিল এনেছে—সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, আসন পুনর্বাসন বা ডিলিমিটেশন বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল।