আজকাল ওয়েবডেস্ক: মালদার মোথাবাড়ি এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে তৈরি হওয়া অশান্তির ঘটনায় সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক তদন্তের পর এনআইএ-র অনুমান, বিষয়টি শুধুমাত্র এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়, এর পিছনে থাকতে পারে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
সূত্রের খবর, আন্দোলনের ধরন ও হঠাৎ করে বড় জমায়েতের ঘটনাকে খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা মনে করছেন, গোটা ঘটনার পিছনে একটি সংগঠিত পরিকল্পনা কাজ করেছে।
অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, এই ভয় ও আশঙ্কা ছড়িয়ে প্রথমে সাধারণ মানুষকে একত্রিত করা হয়। এই ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল তা খতিয়ে দেখছে এনআইএ।
প্রাথমিক অনুমান, কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি আটকে রাখার পরিকল্পনা থাকলেও এর আসল উদ্দেশ্য আরও বড় কিছু হতে পারে। ইতিমধ্যেই ঘটনাকে ঘিরে বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
সেই ভিডিওগুলিতে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও প্ররোচনার ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। এনআইএ সূত্রে খবর, এই ভিডিওগুলিই বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি অশান্তির ঘটনাকে ঘিরে তদন্তে নেমেছে তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। ইতিমধ্যেই কলকাতা থেকে এনআইএ-র একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তের পর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিংকে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। স্থানীয় পুলিশের তরফেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী দল, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও, ঘটনার দিন পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, ঠিক কখন তারা খবর পেয়েছিল, এই সমস্ত বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে এনআইএ। প্রাথমিক তদন্তের পর আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের দাবি, সেই অনুযায়ী এফআইআর দায়ের করা হতে পারে। প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকেলে মোথাবাড়িতে পৌঁছায় এনআইএ তদন্তকারী দল। এরপর থানা থেকে মোথাবাড়ি বিড়িও অফিসে যান বলে খবর।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মালদার মোথাবাড়িতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা প্রথমে দিনভর মোথাবাড়িতে পথ অবরোধ করেন।
এরপর অনেক রাত পর্যন্ত মোথাবাড়িতে অবস্থিত কালিয়াচক-২নং বিডিও অফিস ঘেরাও করে রাখেন। সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে আটকে রেখে তুমুল বিক্ষোভ দেখান।
যদিও গভীর রাতে পুলিশ গিয়ে সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে কোনওমতে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায়, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সিবিআই বা এনআইএ তদন্ত করার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনকে।
যার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এনআইএ-র হাতে তদন্তভার তুলে দেয়। আর তদন্তভার নিয়েই শুক্রবার বিকালে মালদার মোথাবাড়িতে পৌঁছান জাতীয় তদন্তকারী দলের অফিসাররা।
















