আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজনীতিতে চিরশত্রু বলে কিছু হয় না— এই আপ্তবাক্যটিই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে আলিমুদ্দিনের। একসময়ে ভাঙড়ের যে ‘তাজা নেতা’র মস্তানি আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গত দুই দশক লড়াই করেছে বামেরা, সেই আরাবুল ইসলামই এখন আইএসএফ-এর হাত ধরে ‘জোটসঙ্গী’। আর এই সমীকরণ ঘিরেই এখন ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন ডামাডোল।
বৃহস্পতিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কণ্ঠে শোনা গেল চরম হুঁশিয়ারি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আরাবুল ইসলামের মতো বিতর্কিত মুখকে ‘বগলদাবা’ করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়। জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেলিম এদিন কার্যত আলটিমেটাম দিয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকিদের।
আরাবুলকে প্রার্থী করা নিয়ে আইএসএফ-এর ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে সেলিম বলেন, “আমরা লড়াই করছি দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। যাকে পরাস্ত করতে লড়াই, তাকেই পাশে বসিয়ে নেওয়া কোনো সুস্থ লক্ষণ নয়।” আইএসএফ-এর নিচুতলার কর্মীদের উদ্দেশে আবেগঘন আবেদন জানিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই আরাবুলের বিরুদ্ধেই আইএসএফ কর্মীদের খুনের অভিযোগ উঠেছিল। সেলিমের কথায়, “জঞ্জাল কখনও দল বদলালেই সাফ হয়ে যায় না, জঞ্জাল জঞ্জালই থাকে। যারা এপাং-ওপাং-ঝপাং করে, বামপন্থীরা তাদের অনুমোদন করে না।”
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর ছাব্বিশের লড়াইয়েও আইএসএফ-এর হাত ধরেছিল বামেরা। কিন্তু ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী ঘিরে সেই জোটের দেওয়ালে এখন বড়সড় ফাটল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সিপিএম আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, প্রার্থী বদল না করলে তারা কোনোভাবেই প্রচারে নামবে না। বৃহস্পতিবার সেলিমও সেই সুরেই জানালেন, আইএসএফ-কে কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছে। যদি তারা প্রার্থী না সরায়, তবে ক্যানিং পূর্বে বামফ্রন্ট নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থী দিতে বাধ্য হবে। অর্থাৎ, জোট যে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
বাম শিবিরের অন্দরে আলোচনা চলছে, এই বিড়ম্বনা নতুন নয়। এর আগে হুগলির জাঙ্গিপাড়ায় আইএসএফ শেখ মউনুদ্দিন ওরফে বুদোকে প্রার্থী করলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বাম নেতা শ্রীদীপ ভট্টাচার্যদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বুদো স্থানীয় নেতা হলেও আরাবুলের পরিচিতি রাজ্যজুড়ে। তাই তাঁকে মেনে নেওয়া মানে নিজেদের আদর্শের সঙ্গে বড়সড় আপস করা, যা নিচুতলার কর্মীদের কাছে মুখ পোড়ানোর সমান।
জোট-জটের আবহে এদিন আরও সাতটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। এই সাতজনই লড়বেন সিপিএমের প্রতীকে:
জঙ্গিপুর: অলোককুমার দাস
রঘুনাথগঞ্জ: আবুল হাসনাত
নাকাশিপাড়া: শুক্লা সাহা
রানাঘাট উত্তর পশ্চিম: দেবাশিস চক্রবর্তী
রানাঘাট উত্তর পূর্ব (SC): মৃণাল বিশ্বাস
এগরা: সুব্রত পণ্ডা
ময়ূরেশ্বর: জয়ন্ত ভল্লা
এখন দেখার, সেলিমের এই ‘আলটিমেটাম’-এর পর আইএসএফ পিছু হটে কি না। নাকি আরাবুল ইসলামকে কেন্দ্র করেই কার্যত ভেস্তে যায় বাম-আইএসএফ সমঝোতা।















