আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ গভীর রাতে স্ট্রং রুমের ছাদে রহস্যময় ব্যক্তি। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শাসক–বিরোধী সবাই একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে প্রশাসনকে।

 
বর্ধমানের ইউআইটি বিল্ডিংয়ের স্ট্রং রুমে সিসিটিভি বিকল ও সময়ের অমিল ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বর্ধমান উত্তর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস। 
ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই পূর্ব বর্ধমানের ইউআইটি ক্যাম্পাসে তৈরি স্ট্রং রুমকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। ইভিএমের নিরাপত্তা, সিসিটিভির কার্যকারিতা এবং গভীর রাতের সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে একাধিক অভিযোগে সরগরম কমবেশি সব দলই। 
বর্ধমান উত্তর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস অভিযোগ করেছেন, স্ট্রং রুমে ইভিএম রাখার পর থেকেই একাধিক অসঙ্গতি চোখে পড়ছে। তাঁর দাবি, রাতের দিকে মাঝেমধ্যেই সিসিটিভির ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, গভীর রাতে ভবনের ছাদে কিছু লোকের ওঠানামা এবং হাতুড়ির শব্দ শোনা গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে জানান সঞ্জয় দাস। ইতিমধ্যেই তিনি ভিডিও–সহ পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে এনেছেন।


অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি স্বরাজ ঘোষও নজরদারি ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, সিসিটিভি মনিটরিং চলাকালীন বারবার ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং রেকর্ডিংয়ের সময় ভারতীয় সময়ের থেকে ১–২ মিনিট এগিয়ে থাকছে। ফলে কোনও বড় ঘটনা ঘটলে তার সঠিক সময় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। 


স্বরাজ ঘোষ আরও জানান, এত সংবেদনশীল এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টেকনিশিয়ান থাকা অত্যন্ত জরুরি হলেও সেই ব্যবস্থা নেই বলেই অভিযোগ। অভিযোগ জানানো হলেও দ্রুত সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি তাঁর।


এছাড়াও, রাতের অন্ধকারে স্ট্রংরুম সংলগ্ন এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের ওঠানামা এবং অস্বাভাবিক শব্দ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবুও একের পর এক অভিযোগে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন মহল।