আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা দিল্লির নির্দেশে কাজ করছেন— এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে এবং বিজেপি-র আসন সংখ্যা কোনওভাবে ৫০ পার করাতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের স্বাধীনতা বজায় রাখতে সিইও-র তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কোনও শারীরিক বা ভার্চুয়াল বৈঠক করার কথা নয়। কিন্তু বাংলায় সিইও এবং সুব্রত গুপ্ত অন্তত ১০-১২ বার কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কুণাল ঘোষের দাবি, এই বৈঠকগুলোর একমাত্র উদ্দেশ্য হল পর্যবেক্ষকদের প্ররোচিত করা যাতে তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন। এমনকি পর্যবেক্ষকদের এমনভাবে কাজ করতে বলা হচ্ছে যেন তাঁরাই জেলার জেলাশাসক (DM) বা পুলিশ সুপার (SP), যা তাঁদের এক্তিয়ারের বাইরে।
এই হস্তক্ষেপ নিয়ে খোদ পর্যবেক্ষকদের মধ্যেই তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। কুণাল ঘোষ জানান, কয়েক দিন আগেই কোচবিহারের জেনারেল অবজার্ভার অনুরাগের যাদব (ইউপি ক্যাডার) এই বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। গতকাল হিমাচল প্রদেশ ক্যাডারের ২০০৪ ব্যাচের অফিসার সি. পালরাসু সরাসরি পর্যবেক্ষকদের গ্রুপে প্রতিবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট বলেন যে, সিইও-র কোনও অধিকার নেই পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ দেওয়ার বা বৈঠক ডাকার, কারণ তাঁরা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে দায়বদ্ধ।
তৃণমূলের অভিযোগ, এই প্রতিবাদের পরই গ্রুপে চরম উত্তেজনা ছড়ায় এবং সিইও বিতর্কিত পোস্ট মুছে দিয়ে পালরাসুকে গ্রুপ থেকে বের করে দেন। কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, জ্ঞানেশ ভারতী এবং সুব্রত গুপ্তদের মতো আধিকারিকরা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধা দিচ্ছেন। দিল্লির অঙ্গুলিহেলনে বাংলার ভোট প্রক্রিয়াকে কলুষিত করার এই চেষ্টার বিরুদ্ধে সরব হয়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
















