আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বরানগর। শনিবার সন্ধ্যায় গোপাল লাল ঠাকুর রোডে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনীর পাশাপাশি নামাতে হয়েছে র‍্যাফ (RAF)। দুই হেভিওয়েট প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সজল ঘোষের উপস্থিতিতেই দফায় দফায় চলে স্লোগান ও পাল্টা স্লোগান।

বিবাদের মূলে রয়েছে নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে হোর্ডিং এবং পতাকা লাগানো। বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের অভিযোগ, তাঁদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থাকা হোর্ডিং ও গেট তৃণমূল আশ্রিতরা উপড়ে ফেলে নিজেদের প্রচার সামগ্রী লাগিয়ে দিয়েছে। সজল ঘোষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "গত কয়েকদিন ধরে আমাদের হোর্ডিং এখানে ছিল, আজ ওরা তা সরিয়ে নিজেদের দাপট দেখাচ্ছে। আমাদের পতাকাও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। মানুষ যদি এর প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে, তবে আমাদের কিছু করার থাকবে না।"

পাল্টা অভিযোগে সরব হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী তথা বর্তমান বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁকে লক্ষ্য করে 'গো ব্যাক' এবং 'চোর এমএলএ' স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। সায়ন্তিকা দাবি করেন, "বিজেপি বাইরে থেকে বহিরাগতদের এনে হকি স্টিক দিয়ে আমাদের বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমনকি মহিলা কর্মীদের শাড়ি পর্যন্ত টেনে ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। পরাজয়ের ভয়েই বিজেপি এখন বরানগরের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে।"

শনিবার রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত থমথমে। সজল ঘোষকে দেখা যায় সশরীরে রাস্তায় নেমে মাইক হাতে স্লোগান দিতে, পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তৃণমূল কর্মীরাও। দুই পক্ষই কার্যত একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকায় এলাকায় বড়সড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। পুলিশ ও র‍্যাফ বর্তমানে এলাকায় রুট মার্চ করছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে তৃণমূল প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।