ইন্দ্রজিৎ রায়: এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ভালো রায় দিয়েছে। পদ্মফুলের বস্তা দিয়ে ফর্ম ৬ ঢোকাছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আমি খুশি। বুধবার বীরভূমে নানুরের পাপুরি গ্রামে নির্বাচনী জনসভায় এসে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এসআইআর ইস্যুতে তিনি একপ্রকার সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। যেন উকুন বাঁছার মতো করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ২২ লক্ষ নাম তোলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মহিলারা। বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতি না জানার কারণেই বহু মানুষের নাম কাটা পড়েছে।

এদিনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নানুরের সুচপুর গণহত্যার কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি নিজের প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানান, তিনি রেলমন্ত্রী থাকাকালীন দুর্গাপুরে এসে পরিস্থিতি দেখে রাজধানী এক্সপ্রেসের স্টপেজ চালু করেছিলেন। তিনি জানান, যা চোখে দেখেন, সেটাই বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেন।

কৃষি ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য একাধিক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আলু বা ধানের চাষে ক্ষতি হলে কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পাবেন। ক্ষেতমজুরদের জন্য এবার ৪ হাজার টাকা দেওয়া হবে এবং যাঁরা জমিতে সেচ করেন তাঁদের জন্য বিদ্যুৎ ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। 

দেউচা-পাঁচামি প্রকল্প নিয়েও বড় ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর দাবি, এখানে যে কয়লাখনি তৈরি হবে, তা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং আগামী ১০০ বছর বিদ্যুতের কোনও ঘাটতি থাকবে না। একইসঙ্গে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, আগে যে ধরনের কাজ সিপিএম করত, এখন সেই একই কাজ করছে বিজেপি। মিথ্যা প্রচারে মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ারও আহ্বান জানান।

এদিন তিনি দাবি করেন, বিনামূল্যে রেশন প্রকল্পের সুবিধা ৯০ শতাংশ মানুষ পাচ্ছেন, অথচ এর কৃতিত্ব নিচ্ছে বিজেপি। দেশের বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে বাংলায় তা কমানো হয়েছে বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রসীমার উপরে তোলা হয়েছে। 

ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলায় সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকেন। রাম নবমীর মিছিলের সময় সিউড়িতে অস্ত্র নিয়ে ঘোরার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তাঁর আমলে কখনও দাঙ্গা হতে দেননি। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং অভিযোগ করেন, অন্যান্য রাজ্যে গিয়ে বাংলার শ্রমিকরা অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশের দায় সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রেরই। একইসঙ্গে বিজেপিকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করার ডাক দেন তিনি। তাঁর কথায়, এই সরকার সংবিধান ও গণতন্ত্র বিক্রি করে দিয়েছে এবং ২০২৬ থেকেই এর পতন শুরু হবে।

সভা থেকে ভোটারদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোট গণনার সময় নজর রাখতে হবে, যাতে লোডশেডিং বা ইভিএম খারাপের অজুহাতে কোনও কারচুপি না হয়। তাঁর নিজের ভবানীপুর কেন্দ্রেও বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। শেষে ‘খেলা হবে’ স্লোগান তুলে তিনি জানান, এবারকার লড়াই হবে দুরন্ত এবং আগামী লক্ষ্য দিল্লি।

প্রসঙ্গত, এদিন নানুরের পাপুরিতে জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বীরভূম জেলা তথা বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রার্থীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।‌ হাসনের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বোলপুরের প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিনহা, নানুরের বিধানচন্দ্র মাজি, দুবরাজপুরে নরেশ বাউরী, লাভপুরের অভিজিৎ সিংহ, রামপুরহাটের আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কেতু গ্রামের শাহনাওয়াজ হোসেন। তবে এদিনে জনসভার সফল আয়োজন হলেও জেলা তৃণমূলের কনভেনার অনুব্রত মণ্ডলকে দেখা যায়নি মঞ্চে। যা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।