আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সব ভোটার বিবেচনাধীন। মঙ্গলবার রাতে অন্তত নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট দেখে তাই মনে হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকায় যাঁদের নাম ছিল তাঁদের নাম বিবেচনাধীন দেখাচ্ছে। এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করলেও বিবেচনাধীন দেখাচ্ছে কমিশন। কেন এই সমস্যা উত্তর নেই কমিশনের কাছে। এক্স হ্যান্ডলে অনেকে পোস্ট করে এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। শেষমেষ গভীর রাতে কমিশনের তরফ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় যে, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ওয়েবসাইটে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সব সমস্যা মিটে গিয়েছে।
সোমবার রাত ৯টায় প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কথা ছিল কমিশনের। কিন্তু নির্ধারিত সময় তালিকা প্রকাশ করেনি কমিশন। তালিকা বেরতো বেরতো প্রায় মধ্যরাত। এরপর মঙ্গলবার রাতে ফের কমিশনের সাইটে সমস্যা। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের যুবনেতা সুদীপ রাহা, “আজ সকালে কমিশনের বিজ্ঞুপ্তিতে বিজেপির স্ট্যাম্প দেখে বোঝা গিয়েছিল কারা কমিশন চালাচ্ছে। রাতে এই পরিস্থিতি দেখে সেই বিষয়টিই আরও স্পষ্ট হল।”
সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “নির্বাচন কমিশন সকলকে বিবেচনাধীন করে দিচ্ছে এতে আশ্চর্যের কী আছে। কেরলে কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির লোগো দেখা যাচ্ছে। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে আক্ষরিক অর্থে নির্যাতন কমিশনে পরিণত করছে। ভারতের নাগরিকদের উপর ভরসা নেই বিজেপির। বাংলার নাগরিকদের উপর এসআইআরের নামে যা খুশি করছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে যে বিশেষ অংশের মানুষকে নিশানা করা হয়েছে। শয়ে শয়ে জীবিত মানুষের নামে ফর্ম ৭ জমা দিয়েছে বিজেপি। ভোটার লিস্ট সংশোধনের নামে সারা বছর ধরে তৎপরতা দেখায়নি কমিশন। এসআইআরের সঙ্গে এনআরসি-র সঙ্গে। এর ফলে অনেক হিন্দু বাদ পড়ে গিয়েছে। এবার পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি দেখাতে হয়েছে। এর ফলে খিচুড়ি আরও পাকিয়েছে। সব মিলিয়ে ঘেঁটে ঘ। তাই গোটা ভোটার লিস্ট আন্ডার অ্যাজুডিকেশন।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন ছিল। সেই সকল ভোটারদের নাম বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। সোমবার ২৮ লক্ষ ভোটারের তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। তবে কত সংখ্যক ভোটারের নাম প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় প্রকাশ করা হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি কমিশন। ৮০ হাজার ৬৮১-এর মধ্যে ৪০ হাজার বুথের তালিকা প্রকাশ হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। তবে মোট কতজন বাদ গিয়েছে তা জানানো হয়নি।
যাঁদের নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে বাদ যাবে তাঁরা অ্যাপালেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের কথা অনুযায়ী, এখনও ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়নি। ২৪ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে জেলাভিত্তিক নিয়োগ করা হবে। তার মধ্যে ১৯ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। বাকি এখনও হয়নি। তারপর সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তারপর ট্রাইব্যুনাল গঠন হবে। কমিশন আরও জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকে প্রতি শুক্রবার একটি করে তালিকা প্রকাশ করা হবে।
