আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে সেকেন্ড সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে অতিরিক্ত ভোটারদের নাম প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা আগেই ফ্রিজ হয়ে গিয়েছিল।
তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৭ তারিখ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার রাত পর্যন্ত যাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন বুধবার।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয়েছে মোট ১৪৭৪ জনের। সেখান থেকে মোট ৬ জনের নাম বাদ গিয়েছে। এছাড়াও, ১৪৬৮ জনের নাম যোগ হয়েছে ভোটার তালিকায়।
উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটের আগেও একটি সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করা হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের তরফে। সেখানে প্রায় সাড়ে চার হাজার বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ১৩৯ জনের নাম যোগ করা হয় ভোটার তালিকায়।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, নির্বাচনের তারিখের ৪৮ ঘণ্টা আগে ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্র মিললেই ভোটে অংশ নিতে পারবেন বিবেচনাধীনরা। সেই নির্দেশিকা মেনেই দুটি দফার ৪৮ ঘণ্টা আগে অতিরিক্ত ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন।
দেশের শীর্ষ আদালত জানায়, এসআইআর মামলায় ১৪২ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন ছিল ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ২৩ এপ্রিল অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটের ক্ষেত্রে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত নাম তোলার সময় পাবেন ভোটাররা। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে ট্রাইব্যুনালের ওপর।
প্রথম দফার আগে ট্রাইব্যুনাল ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যাদের নামে ছাড়পত্র দিয়েছিল তারাই একমাত্র নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল যাদের নামে ছাড়পত্র দিয়েছে তাঁরা দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশ নিতে পারবেন। তবে ট্রাইব্যুনালে যাদের নাম বাদ যাবে তারা এবারের ভোটে অংশ নিতে পারবেন না।
ভোটের আগে ছাড়পত্র পাওয়া বিচারাধীনদের নাম ধাপে ধাপে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে ভোটার তালিকা ফ্রিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন।
ভোটের আগে এটাই নিয়ম। তবে এবার ১৪২ ধারা প্রয়োগ করল নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আদালত বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করার ফলে, যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনালে ছাড়পত্র পাবে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। তবে যাঁদের নাম বাদ গেল তাঁরা এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে চলতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। বিশেষ করে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আপিলের শুনানির জন্য একটি আরও পোক্ত আপিল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
বিচারপতি বাগচী উল্লেখ করেন, বিহারের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে অন্যভাবে এসআইআর করেছে নির্বাচন কমিশন। বাংলার ক্ষেত্রে কমিশন অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ নামে একটি নতুন ক্যাটাগরি চালু করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, বিহারে এসআইআরের সময় যাদের ২০০২ সালে এসআইআরে নাম ছিল তাদের পরে কোনও নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তাদের সেই পূর্ব অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
















