বিভাস ভট্টাচার্য 

হয় সমাধান, না হলে ভোটের লড়াইকে গুডবাই। প্রথমবার বিধানসভার লড়াইয়ে নেমে এটাই প্রতিজ্ঞা প্রার্থীর। আর তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রটা কিন্তু যে সে জায়গা নয়, কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র জোড়াসাঁকো। 

প্রার্থীর নাম বিজয় উপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জেতা পরপর দু'বারের কাউন্সিলর। দল তাঁকে এবার বিধানসভার প্রার্থী করেছে। 

যদিও বিজয়ের রাজনীতি শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের ছাতার তলায়। কলেজ জীবনে ছিলেন ছাত্র পরিষদের নেতা। ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির মেম্বার। রাজনৈতিক গুরু বলে কাকে মানেন সে প্রশ্নের জবাবে একবারেই বলে ওঠেন প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জির নাম।

খোলাখুলি স্বীকার করেন, "সুব্রত মুখার্জি আমার রাজনৈতিক গুরু।" জোড়াসাঁকোর মুক্তারামবাবু স্ট্রিট-এ তৃণমূল প্রার্থীর অফিসে এই কারণেই মমতা ব্যানার্জির ছবির পাশে শোভা পাচ্ছে সুব্রত মুখার্জির একটি ছবি। 

তবে ছাত্র জীবনে কংগ্রেস করলেও পরে বিজয় একটা সময় যোগ দিয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টিতে। হয়েছিলেন এই দলের রাজ্য সভাপতি। বিজয়ের কথায়, "অমর সিং আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অমর সিংয়ের হাত ধরেই ওই দলে যোগ দিয়েছিলাম।"

আর যে সময়টা সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে ছিলেন তখন হাওড়ায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রকাশ্য সমাবেশে তাঁর হয়ে প্রচার করতে এসেছিলেন জয়া ভাদুরি থেকে শুরু করে সঞ্জয় দত্ত-র মতো মুম্বাইয়ের বিশিষ্ট অভিনেত্রী অভিনেতারা।

এবার কি এরকম কোনও 'স্টার'কে আনছেন? বিজয়ের জবাব, "আমাদের দলে এবং এই বাংলার মানুষের কাছে মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি হলেন সবচেয়ে বড় 'স্টার'। ফলে তাঁরা এলেই আর কাউকে দরকার পড়বে না।" 

জন্মের পর থেকেই জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা। এলাকা চেনেন নিজের হাতের তালুর মতো। ফলে কোন এলাকায় কতজন ভোটার তাঁদের এবং বিপক্ষ দলের সেটা একেবারে তাঁর মুখস্থ।

এর পাশাপাশি দু'বার তৃণমূলের তরফে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে নিয়মিত জনসংযোগটাও আছে। নিজেই বলেন, "আমার দরজা সবার জন্য খোলা। তা সে যেকোনো দলের লোকই হোক। কারণ ভোটে জেতার পর আমি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। সেই ওয়ার্ডে যারা থাকেন তাঁদের সকলের জন্যই আমার দরজা খোলা। আর আসতে কাউকে ধরতে হয় না।" 

রাজ্যে পালাবদলের পর জোড়াসাঁকো আসনটি টানা জিতে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। জেতা আসনে দাঁড়ানোটা কি বেশি চ্যালেঞ্জিং? কী রকম? পাল্টা প্রশ্ন বিজয়ের। এই যেমন আগের বারের ফলাফল ধরে রাখা বা ভোটের মার্জিন ইত্যাদি।

আত্মবিশ্বাসী বিজয়ের দাবি, "লিখে রাখুন রেকর্ড মার্জিনে জিতব। কেন্দ্রের অসহযোগিতা সত্ত্বেও বাংলার জন্য দিদি যা করেছেন সেই কাজগুলো যদি আমরা মানুষের কাছে গিয়ে ঠিকঠাক তুলে ধরতে পারি তাহলে লোকে এমনিতেই ভোট দেবেন।"
 
এলাকায় জনসংযোগে বেরিয়ে 'নোট' করছেন বাসিন্দাদের সমস্যার কথা। যেটুকু সমাধান করা যায় চেষ্টা করছেন ঘুরতে ঘুরতেই সেটুকু সমাধান করার।

এলাকায় সমস্যা বিশেষ করে সামান্য বৃষ্টিতেই যে ঠনঠনিয়া 'সুইমিং পুল' হয়ে যায় সেটার সমাধান কি আদৌ কোনওদিন হবে? বিজয়ের চ্যালেঞ্জ, "আলবত হবে। যদি না পারি তাহলে আর জীবনেও ভোটে দাঁড়াব না। আমি জানি কীভাবে ওই সমাধান করতে হয়।"