আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেগঙ্গার চাপাতলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক ভোটারের ‘অভিনয়’ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। হাড়োয়া বিধানসভার ১৫৯ নম্বর বুথে ঘটে যাওয়া এই নাটকীয় ঘটনা এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।

সকাল থেকেই বুথের সামনে লম্বা লাইন। রোদ উপেক্ষা করে মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। ঠিক সেই সময় লাইনে এসে দাঁড়ান সাবান আলি নামে এক যুবক। তাঁর চলাফেরা এবং শারীরিক অঙ্গভঙ্গি দেখে উপস্থিত সকলেরই মনে হয়েছিল তিনি ‘বিশেষভাবে সক্ষম’। মানবিকতার খাতিরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁকে জায়গা ছেড়ে দেন। এমনকি বুথে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও ওই যুবককে ধরে ধরে ভোটকক্ষের ভেতরে পৌঁছে দেন। লক্ষ্য ছিল একটাই— এক শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারকে দ্রুত ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

সাবান আলি ধীরগতিতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ভেতরে যান এবং নিজের ভোটটি দেন। কিন্তু আসল চমক অপেক্ষা করছিল বুথের বাইরে। ভোট দিয়ে বেরোনোর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই দেখা যায় এক অভাবনীয় দৃশ্য। যে যুবক একটু আগেও হাঁটতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তিনি বুথ থেকে বেরিয়েই একেবারে স্বাভাবিক ছন্দে হাঁটতে শুরু করেন। কোনো রকম সাহায্য বা খুঁড়িয়ে হাঁটার বালাই নেই, চনমনে মেজাজে দ্রুত পায়ে এলাকা ছাড়েন তিনি।

এই দৃশ্য দেখে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটার থেকে শুরু করে পোলিং এজেন্ট— সকলেরই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। উপস্থিত মানুষজনের বুঝতে বাকি থাকে না যে, লাইনে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে হবে না বলেই সম্ভবত ওই যুবক ‘বিশেষভাবে সক্ষম’ হওয়ার অভিনয় করেছিলেন। 

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বুথ চত্বরে হাসাহাসি এবং ক্ষোভ দুই-ই দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, তাঁরা সহানুভূতির খাতিরে জায়গা ছেড়ে দিলেও আদতে তাঁদের বোকা বানানো হয়েছে। যা শুধু অনৈতিক নয়, বরং যারা সত্যিই বিশেষভাবে সক্ষম, তাঁদের অধিকারকেও অপমান করার শামিল। যদিও এই নিয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও  আনুষ্ঠানিক বয়ান পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ ভোটের আবহে দেগঙ্গার এই ‘সাবান আলি’ উপাখ্যান এখন চায়ের দোকান থেকে পাড়ার মোড় সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।