আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূলের অভিযোগেই অবশেষে সীলমোহর পরলো নির্বাচন কমিশনের। অভিযোগ উঠেছিল স্ত্রী বিজেপি নেত্রী এবং তার স্বামী মালদহের পুলিশ পর্যবেক্ষক হৃদয় কান্ত, ২০১৫ ব্যাচের আইপিএস। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভা ভোটের আগে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগের পর মালদহের চারটি কেন্দ্রে পুলিশ পর্যবেক্ষক বদল করা হল। পাশাপাশি আরও পাঁচজন পুলিশ পর্যবেক্ষককে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, ২০১৫ ব্যাচের আইপিএস হৃদয় কান্তকে মালদহের মানিকচক, মোথাবাড়ি, সুজাপুর এবং বৈষ্ণবনগরে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁর স্ত্রী বিহারের বিজেপি নেত্রী হওয়ায় (IPS) হৃদয় কান্ত নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে শাসকদল।
এই ইস্যুতে তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। সেখানে জয়ন্ত কান্ত ও তাঁর স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করে অভিযোগ তুলে ধরে তৃণমূল। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে অবশেষে পদক্ষেপ নেয় নির্বাচন কমিশন। শনিবার কমিশন জানায়, মালদহের ওই চার কেন্দ্রে নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন আইপিএস অফিসার হৃদয় কান্ত। তিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা হলেও বিহার ক্যাডারের আইপিএস অফিসার।
এছাড়াও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক বদল করা হয়েছে। জঙ্গিপুর, রঘুনাথগঞ্জ ও সাগরদিঘিতে নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি জামুড়িয়া, আসানসোল দক্ষিণ, আসানসোল উত্তর, কুলটি এবং বারাবনিতেও পরিবর্তন করা হয়েছে পর্যবেক্ষক। খড়্গপুর সদর, পিংলা, খড়্গপুর ও ডেবরাতেও বদল আনা হয়েছে। নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাগদা, বনগাঁ উত্তর এবং হাবড়া, অশোকনগর ও আমডাঙার পর্যবেক্ষকদের। অন্যদিকে, শুক্রবার জঙ্গিপুরের অশান্তির ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কমিশন যে কড়া নজরদারিতে রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়েছে এই পদক্ষেপে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রতিটি কেন্দ্রে তিন ধরনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়— সাধারণ পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং ব্যয় পর্যবেক্ষক। এবারের নির্বাচনে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল প্রকাশিত হবে ৪ মে।















