আজকাল ওয়েবডেস্ক: একী অবস্থা নির্বাচন কমিশনের! এবার নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পর্যবেক্ষককেই সরিয়ে দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কিন্তু কেন? কমিশন সূত্রে খবর, তাঁর দায়িত্বে ক’টি বুথ আছে, সে সম্পর্কেই ওয়াকিবহাল ছিলেন না ওই পর্যবেক্ষক। এই সাধারণ বিষয়গুলি অবগত না হওয়ায় তাঁর উপর যথেষ্টই বিরক্ত হন জ্ঞানেশ। সঙ্গে সঙ্গে ওই পর্যবেক্ষককে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এটা ঘটনা, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের জন্য ২৯৪ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল কমিশন। বুধবার তাঁদের সকলের সঙ্গে বৈঠক করেন জ্ঞানেশ। সেই বৈঠকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক অনুরাগ যাদব। প্রশ্ন তোলেন অনুরাগের ভূমিকা এবং দায়িত্বজ্ঞান নিয়েও।
কমিশন সূত্রে খবর, পর্যবেক্ষক হিসাবে বেশ কিছু দিন হল পশ্চিমবঙ্গে আছেন অনুরাগ যাদব। কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। কিন্তু ওই কেন্দ্রে কতগুলি বুথ আছে, তা সম্পর্কে ধারণাই নেই তাঁর। জ্ঞানেশের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি অনুরাগ। এই অবস্থায় তিনি কীভাবে নির্বাচনের কাজ দেখভাল করবেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন জ্ঞানেশ। তার পরই অনুরাগকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এদিকে, ২৩ ও ২৯ এপ্রিল এই দু’দফায় হবে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ চলছে। সব রাজনৈতিক দলই জোরদার প্রচার করছে। এদিকে, নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছভাবে ভোট করাতে বদ্ধপরিকর। এই অবস্থায় বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানিয়েছে, ভয়মুক্ত ও বাধামুক্ত পরিবেশে স্বচ্ছ নির্বাচন করাতে ইলেকশন কমিশন বদ্ধপরিকর। এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল, ১০০ শতাংশ বুথ থেকে ওয়েব কাস্টিং। এর ফলে প্রতিটি বুথ ইলেকশন কমিশনের নজরে থাকবে। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
কমিশন আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি তাদের নজরে এসেছে যে কিছু ব্যক্তি ও সমষ্টি এই বিষয়ের ভুল ব্যাখ্যা করছেন। সাধারণ ভোটারের মনে তার ভোটদানের গোপনীয়তা নিয়ে সংশয় তৈরি করছেন।
এই বিষয়ে ইলেকশন কমিশন সমস্ত ভোটারকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানাতে চায় যে এই সমস্ত ক্যামেরা কোনওভাবেই ভোটদানের গোপনীয়তাকে লঙ্ঘন করবে না। কমিশন জানিয়েছে, ‘আপনার দেওয়া ভোট শুধু আপনিই জানবেন।’
কমিশন আরও জানিয়েছে, এই দুটি ক্যামেরা বা কোনও কোনও ক্ষেত্রে তিনটি ক্যামেরা শুধুমাত্র ভোটকেন্দ্রের ভিতরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবে। ভোটদানের দিকে নয়।











