আজকাল ওয়েবডেস্ক: নাম ঘোষণা হওয়ার পরদিন সকাল থেকেই প্রচার শুরু করেছেন চন্দননগরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন। দেওয়াল লিখন সম্পন্ন হয়েছে আগেই। রাস্তার দুপাশ ছেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকায়। লেগেছে প্রার্থীর প্রচারে হোর্ডিং। এখন প্রচার চলছে বাড়ি বাড়ি ঘুরে। সকলেই তাঁর পরিচিত। তবু ভোটের সময় সকলেই প্রার্থীকে আশা করে থাকেন, তাই যাচ্ছেন। তবে গিয়ে হাঁসি মুখে শুধু সৌজন্য বিনিময় নয়। খোঁজ নিচ্ছেন সরকারি প্রকল্পের সুবিধে পৌঁছচ্ছে কি না। 

পাশাপাশি জানছেন ওই নাগরিক তাঁর কোনও প্রাপ্য সার্বিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কিনা। কোনও খামতি নজরে পড়লেই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের থেকে কৈফিয়ত চাইছেন। অন্য কোনও বিষয় তাঁকে ভাবায় না। তাঁর মধ্যে বিধানসভা এলাকার বাইরে কারোর ভালো মন্দ জানার কোনও আগ্রহ নেই। বিরোধী প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ চলছে, সেই সম্পর্কে জানতেও একেবারেই ইচ্ছুক নন। তাঁর শুধু মাত্র নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাদের স্বচ্ছন্দের। এই স্বভাবটাই চন্দননগরের বাসিন্দাদের কাছে ইন্দ্রনীল সেনকে অনেক বেশি প্রিয় করে তুলেছে। 

যদিও রাজনৈতিক মহলে বিশেষ চর্চিত চন্দননগর বিধানসভা কেন্দ্রের নাম। জেলার ১৮ টি বিধানসভার মধ্যে সবথেকে বেশি উন্নয়ন নাকি হয়েছে চন্দননগরে। উন্নয়নের নিরিখে সেই চর্চা বাস্তব সত্য। কারণ, গত দশ বছরে চন্দননগরে বিপুল উন্নয়ন হয়েছে। বিধানসভা কেন্দ্রের চিত্রটাই পাল্টে গেছে। খুশি বাসিন্দারা। আর নিত্যদিন তাঁরা বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য, পানীয় জলের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় সমস্যার সম্মুখীন হন না। রাস্তাঘাট আলো পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অভিযোগ নেই। যারা এখনও ভোটার হননি এমন ছাত্র ছাত্রীরাও প্রকল্পের আওতায়। সরাসরি সরকারি ভাতা পৌঁছয় ৯০ শতাংশের বেশি বাসিন্দাদের কাছে। 

পরোক্ষভাবে সরকারি প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবশ্রী সহ নানান ভাতার সুবিধে উপভোগ করে থাকেন উপযুক্ত প্রত্যেকেই। সরকারি প্রকল্পের সুবিধে পেয়ে থাকেন সমগ্র চন্দননগর বিধানসভার প্রত্যেক বয়সের সকল বাসিন্দা। সেই সংখ্যাটা গোটা বিধানসভা এলাকার ভোটদাতাদের থেকে অনেকটাই বেশি।

উল্লেখযোগ্য, ইন্দ্রনীল সেনের উদ্যোগে চন্দননগরের নিকাশি গড় সংস্কার চলছে। প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একাধিক পানীয় জলের প্রকল্প, আলো হাব, আন্ডার গ্রাউন্ড বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা, স্টেডিয়াম, রাস্তা, উদ্যান, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ সব আরও একাধিক প্রকল্প এই বিধানসভাকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। 

চন্দননগর কেন্দ্রে ২০২১ সালের নির্বাচনে মোট ভোটদাতারা সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬০২ জন। ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ১৭৮ জন। অর্থাৎ ৭৯.৩৬ শতাংশ। তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন ভোট পেয়েছিলেন ৮৬ হাজার ৭৭৮ ভোট। অর্থাত ৪৭.৬৩ শতাংশ। প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির দীপাঞ্জন গুহ পেয়েছিলেন ৫৫ হাজার ৭৪৯ ভোট। আর সিপিএম প্রার্থী গৌতম সরকার পেয়েছিলেন ৩৩ হাজার ৭০২ ভোট। প্রার্থী ছিল মোট ৬ জন। বাকি তিন নির্দল প্রার্থী পেয়েছিল ১৯ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। 

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এবারে নির্দল প্রার্থীরা নিছকই নির্দল হবেনা। কারণ বিজেপি রাজ্য সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহ পুনরায় প্রার্থী হওয়ায় বিজেপি কর্মী মহলে বিক্ষোভ চরমে উঠেছে। অভিযোগ, ২০২১ নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে দীপাঞ্জন বাবু কখনওই চন্দননগর মুখো হননি। যোগাযোগ রাখেননি ওখানকার কর্মীদের সঙ্গে। ফলে এবারেও প্রার্থী পদে পুনরায় দীপাঞ্জন গুহর নাম ঘোষণা হতেই সেখানে শুরু হয় বিক্ষোভ আজও চলছে। 

জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ একাধিক বিজেপি কর্মী নির্দল হয়ে লড়াই করার কথা ঘোষণা করেছেন। ফলে গত বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের অংকে কোপ পড়ার আশঙ্কা প্রবল। সেটা জেনেই হয়তো প্রার্থী ক্ষোভ প্রশমনের গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে ভোট প্রচার শুরুই করে উঠতে পারেননি দীপাঞ্জন বাবু।