আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে রবিবার ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে প্রকাশিত হয়েছিল ‘তারকা প্রচারকদের’ তালিকা। ৪০ জনের ওই তালিকায় নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহকে সামনে রেখে উপরের দিকেই জায়গা পেয়েছিলেন বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও ভিনরাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বরা।
অথচ বাংলায় নির্বাচনের লড়াই, তবুও রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতোই সীমিত। এই তালিকা প্রকাশের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
প্রশ্ন ওঠে, বাংলার মাটিতে লড়াই, অথচ বাংলার নেতারা নেই কেন? বিরোধীরাও কটাক্ষ করেন, বিজেপি কি তবে এখনও ‘দিল্লি-নির্ভর’ রাজনীতির বাইরে বেরোতে পারেনি?
আর এই বিতর্কের রেশ কাটার আগেই বড় পদক্ষেপ নিল বিজেপি। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আচমকাই বদলে ফেলা হল সেই ‘তারকা প্রচারকদের’ তালিকা। স্পষ্ট, প্রথম তালিকা প্রকাশের পর একটানা বিতর্কে চাপ তৈরি হয়েছিল দলের অন্দরমহলেও।
নতুন তালিকায় একদিকে যেমন কিছু তারকা ও অরাজনৈতিক মুখকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে যুক্ত করা হয়েছে বাংলার একাধিক নেতাদের। নতুন তালিকায় লিয়েন্ডার পেজকে রাখা হয়নি।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নামও বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। পাশাপাশি, বিজেপি সরিয়ে দিয়েছে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, অভিনেত্রী-সাংসদ কঙ্গনা রানাউত এবং বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর নামও।
অন্যদিকে, নতুন তালিকায় জোর দেওয়া হয়েছে রাজ্য নেতৃত্বের উপরেই। রাজ্য বিজেপির তিন সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র খাঁ, জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নাম যুক্ত হয়েছে তালিকায়।
জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জয়ন্ত রায় ও মনোজ টিগ্গার নাম আগের মতোই রাখা হয়েছে। তবে এবার তাঁদের সঙ্গেই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ, মালদা উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক পাল।
পাশাপাশি, শুধু নাম নয়, ক্রমবিন্যাসেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। আগের তালিকায় যেখানে বাংলার নেতাদের রাখা হয়েছিল একেবারে শেষদিকে, এবার তাঁদের অনেককেই টেনে আনা হয়েছে মাঝামাঝি।
অর্থাৎ, বাংলার নির্বাচনে এখানকার বিজেপি নেতারাই যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বিজেপির তরফে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই হঠাৎ পরিবর্তন আসলে বিজেপির ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’।
প্রার্থী তালিকা নিয়েও যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গেই যুক্ত হয়েছিল ‘কম বাঙালি মুখ’-এর অভিযোগ। ফলে চাপ সামলাতেই দ্রুত তালিকা সংশোধনের পথে হাঁটতে হয়েছে দলকে।
















