আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে বাংলায়। হাতে মাত্র কয়েকটা দিন, তারপরই জনতা জনার্দনের রায় দেওয়ার পালা। উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্রই এখন তুঙ্গে প্রচারের ব্যস্ততা। কিন্তু প্রচারের এই উত্তাপের মাঝেই জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার করতে গিয়ে তিস্তা নদীতে তলিয়ে গেলেন এক যুবক।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ময়নাগুড়ি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী ডালিম রায়ের সমর্থনে শনিবার প্রচার চলছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মেখলিগঞ্জ ও ময়নাগুড়ি ব্লকের দুনদার বাড়ি এলাকায়। ওই মিছিলে সামিল হয়েছিলেন করতলী গ্রামের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী বিজেপি কর্মী অমল রায়। এলাকাটি তিস্তা নদী দ্বারা দ্বিখণ্ডিত হওয়ায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নৌকা করে নদী পার হওয়ার সময় আচমকাই ভারসাম্য হারিয়ে প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান অমল। নদীর গভীরতা এবং জলের টান বেশি থাকায় সঙ্গীরা শত চেষ্টা করেও তাঁকে উদ্ধার করতে পারেননি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ময়নাগুড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তল্লাশি চালাতে নামানো হয়েছে এনডিআরএফ-এর একটি বিশেষ দল। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও নিখোঁজ যুবকের হদিস মেলেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকাজ জারি রয়েছে।
ভোটের আবহে এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা গ্রামে। নিখোঁজ কর্মীর অপেক্ষায় নদীর পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন শয়ে শয়ে মানুষ। প্রার্থীর প্রচার সূচিতেও এই ঘটনার জেরে বিষাদের মেঘ।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত ময়নাগুড়িতে ২০১৪ সালের উপনির্বাচন সহ মোট ১৮টি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভোটাররা দীর্ঘ কিন্তু স্বতন্ত্র পর্যায়ে বিভিন্ন দলকে সমর্থন করেছেন। কংগ্রেস এবং তার জোট সঙ্গী প্রথম সাতটি নির্বাচনে জয়লাভ করে, যার মধ্যে কংগ্রেস পাঁচবার এবং বাংলা কংগ্রেস দু’বার ক্ষমতায় আসে। এরপর বামফ্রন্টের অন্যতম প্রধান সহযোগী বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল (বিএসপি) ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে টানা আটবার ময়নাগুড়িকে তাদের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করে, যার পরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং পরবর্তীতে বিজেপি ক্ষমতায় আসে।
২০১৪ সালের উপনির্বাচনে তৃণমূল এখানে খাতা খোলে। অনন্ত দেব অধিকারী ২০১১ সালে আরএসপি-র টিকিটে তৃণমূলের জুথিকা রায় বসুনিয়াকে ১৬,২৭৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন, যার ফলে উপনির্বাচন হয়। সেই বছর তিনি তাঁর প্রাক্তন আরএসপি সহকর্মী দীনবন্ধু রায়কে ৩১,৭৯০ ভোটে পরাজিত করে তাঁর নতুন দলের জন্য আসনটি ধরে রাখেন। ২০১৬ সালে আরএসপি-র ছায়া দে-কে আরও বড় ব্যবধানে ৩৪,৯০৭ ভোটে হারিয়ে আসনটি পুনরায় ধরে রাখেন। বিজেপি ২০২১ সালে আসনটি দখল করে। বিজেপি প্রার্থী কৌশিক রায় তৃণমূলের মনোজ রায়কে ১১,৯১১ ভোটে পরাজিত করেন।
এবারের বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী ডালিম রায়ের লড়াই তৃণমূলের রামমোহন রায় এবং সিপিএমের জোটসঙ্গী আরএসপি-র সুদেব রায়।















