আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের গণনাকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ করার বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল তৃণমূল। শনিবার জরুরি ভিত্তিতে সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি পিএস নরসিমার বেঞ্চে। শুনানি শেষে আদালত জানিয়েছে, তারা এখনই কোনও নির্দেশ দেবে না। কমিশন নিজের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুয়ায়ী, কাজ করতে পারবে। আদালত জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় কর্মীরা যে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই কাজ করবে এই যুক্তিতে বিভ্রান্তি রয়েছে। শাসকদলের উচিত সরকারি কর্মীদের ‘কিছুটা বিশ্বাস’ করা।
এদিনের শুনানিতে তৃণমূলের হওয়ে সওয়াল করেন কপিল সিব্বল। আদালতের সামনে তিনি বেশ কয়েকটি আপত্তি তুলে ধরেন। তিনি যুক্তি দেন যে, কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ১৩ এপ্রিল জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (ডিইও) দেওয়া হলেও, তৃণমূল ২৯ এপ্রিল এ বিষয়ে জানতে পারে, যার ফলে সময়মতো জবাব দেওয়া সম্ভব ছিল না।
গণনা কেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খলা হতে পারে বলে কমিশনের আশঙ্কার ভিত্তি নিয়ে সিব্বল প্রশ্ন তোলেন। তিনি আদালতকে বলেন, “দ্বিতীয় বিষয়টি হল, কমিশনের আশঙ্কা রয়েছে যে প্রতিটি কেন্দ্রেই গন্ডগোল হবে। তারা এই খবর কোথা থেকে পায়? এটা বিস্ময়কর।” তৃণমূলের আইনজীবী আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ইতিমধ্যেই প্রতিটি টেবিলে মাইক্রো-অবজারভার হিসেবে রয়েছেন, আরও একজন কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন কেন?”
কপিল আরও বলেন, ‘‘সার্কুলারেই বলা রয়েছে, একজন রাজ্য সরকারের কর্মী থাকা উচিত। কিন্তু তারা কোনও রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রতিনিধিকে নিয়োগ করছে না। সিইও বলেছেন, বিভিন্ন মহল থেকে গণনা প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এটি সরাসরি রাজ্য সরকারের দিকেই আঙুল তুলছে।”
বিচারপতি পিএস নরসিমা সিব্বলের যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, “এই যুক্তির ধারণা কী? তাঁরা সবাই তো সরকারি কর্মী।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী উত্তর দিলেন, “নিযুক্ত কর্মী কেন্দ্রীয় সরকারের মনোনীত ব্যক্তি কি না, তাতে বিশেষ কিছু যায় আসে না। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সন্তুষ্টির ওপর নির্ভরশীল। আপনার গণনা এজেন্টরা সেখানে থাকবেন এবং অন্যরাও থাকবেন। তারপর থাকবেন গণনা সহকারী, গণনা সুপারভাইজার এবং মাইক্রো অবজারভার, যিনি একজন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী।”
এরপর কপিল দাবি করেন, সার্কুলার মেনে কাজ করা হচ্ছে না। বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘যদি সার্কুলারে এমনটা বলা থাকত, তবুও আমরা তাতেও কোনও অন্যায় খুঁজতে পারতাম না। কারণ, নিয়মেই বলা আছে যে কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকারের কর্মীকে এই পদে নিয়োগ করা যেতে পারে।’’
এই পর্যবেক্ষণের পরেই তৃণমূলের তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনের সার্কুলারটির কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। জবাবে, নির্বাচন কমিশন আদালতকে আশ্বস্ত করেছে যে নির্দেশিকাগুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে যে রাজ্য সরকারের আশঙ্কা অমূলক, কারণ রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারাও এই প্রক্রিয়ার অংশ হবেন এবং গণনা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, “আমরা এমনভাবে ব্যবস্থা করেছি যে, যখন গণনা তত্ত্বাবধায়ক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হবেন, তখন গণনা এজেন্ট হবেন রাজ্য সরকারি কর্মী।”
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এই ঘটনাকে তৃণমূলের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে অভিহিত করেছেন।
গত ৩০ এপ্রিল রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে একটি বিজ্ঞপ্ত জারি করা বলা হয় যে, গণনাকেন্দ্রে প্রতিটি টেবিলে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে একজন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীকে থাকবে হবে। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে যায় তৃণমূল। শাসকদলের হয়ে আইনজীবি কল্যাণ ব্যানার্জি যুক্তি দেন যে, কমিশনের এই নির্দেশ এক্তিয়ার বহির্ভূত এবং শুধুমাত্র আশঙ্কার ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে। আরও যুক্তি দেওয়া হয় যে, নিযুক্ত কর্মী বিজেপি দ্বারা প্রভাবিতও হতে পারেন। আদালতের এই আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দেন এবং গণনাকেন্দ্রে একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে মামলা খারিজ করে দেয়। এর পরেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে তৃণমূল।















