আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট সম্পন্ন হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। ওই দিন রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটের হার ছিল ৯২.৮৮ শতাংশ। কিন্তু সেটি সম্পূর্ণ রিপোর্ট ছিল না। অবশেষে ভোটের দু’দিন পরে ভোটের হারে সম্পূর্ণ তথ্য দিল নির্বাচন কমিশন। তথ্য অনুযায়ী, বাংলায় প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৯৩.১৯ শতাংশ। যা ভেঙে দিয়েছে আগের সব রেকর্ড। ২০১১ সালে রাজ্যের পট পরিবর্তনের সময় ভোট পড়েছিল ৮৪ শতাংশ। ২০২১ সালে হার ছিল ৮২.৩ শতাংশ। স্বাধীনতার পরে এই প্রথম এত পরিমাণ ভোট পড়ল রাজ্যে। দ্বিতীয় দফায় যদি ৯০ শতাংশের কাছাকাছিও ভোট পড়ে তাহলেও রেকর্ড গড়বে রাজ্যে ভোটদানের হার।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩০৫ জন। ভোট দিয়েছেন ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ২২ হাজার ১৬৮ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ১ কোটি ৬৫ লক্ষ এবং পুরুষ ভোটার ১,৭০,৮১,৮৪৯ জন।
প্রথম দফায় জেলাভিত্তিক ভোট দানের হারে সবচেয়ে এগিয়ে কোচবিহার। উত্তরের জেলায় ভোট পড়েছে ৯৬.২ শতাংশ। এছাড়া, আলিপুরদুয়ারে ৯৩.২ শতাংশ, জলপাইগুড়িতে ৯৪.৭৬, কালিম্পংয়ে ৮৩.৪ শতাংশ, দার্জিলিংয়ে ৮৮.৯৮ শতাংশ, উত্তর দিনাজপুরে ৯৪.১৬ শতাংশ, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৯৫.৪৪ শতাংশ, মালদহে ৯৪.৭৯ শতাংশ, মুর্শিদাবাদ ৯৩.৬৭ শতাংশ, পূর্ব মেদিনীপুরে ৯২.৭৫ শতাংশ, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৯২.১৯ শতাংশ, ঝাড়গ্রামে ৯২.২৬ শতাংশ, পুরুলিয়া ৯১.৫৯ শতাংশ, বাঁকুড়ায় ৯২.৫৫ শতাংশ, পশ্চিম বর্ধমানে ৯০.৩২ শতাংশ এবং বীরভূমে ৯৪.৫১ শতাংশ ভোট পড়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফায় ও আরো বেশি পরিমাণে থাকবে বডি ক্যামেরা, ড্রোণের মাধ্যমে নজরদারি। থাকবে বিশেষত সংবেদনশীল ভোট কেন্দ্রগুলোতে। রাজ্যে মোট ভোট গননাকেন্দ্র ৮৭টি। দ্বিতীয় দফায় নিরাপত্তা নিয়ে আরও কড়া কমিশন। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে আরও ১১ জন পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগ করা হল। তাঁদের প্রত্যেককেই ভিনরাজ্য থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে রাজ্য পুলিশের হাতেই। ১১ জনের মধ্যে তিনজনকে পোস্টিং করা হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়।
কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হচ্ছে বিপুল। কমিশনের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় ২৩২১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সবচেয়ে বেশি ২৭৩ কোম্পানি মোতায়েন করা হবে কলকাতায়। সবথেকে কম বাহিনী মোতায়েন করা হবে আসানসোল দুর্গাপুরে ১৩ কোম্পানি।















