আজকাল ওয়েবডেস্ক: নানুরের ভোটার তালিকা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে বীরভূম জেলায়। জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখের নামই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না প্রকাশিত নতুন ও অতিরিক্ত তালিকায়। একইসঙ্গে তালিকা থেকে উধাও তাঁর মা সাদেকা বিবির নামও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার মধ্যরাতে নির্বাচন কমিশনের তরফে এসআইআর-এর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় কিছু ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও, প্রায় দুই লক্ষ দুই হাজার ২৫৯ জন বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে বেশিরভাগের নামই দেখা যায়নি। 

নানুরের ২৩৭ নম্বর পার্ট, পাপুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় কাজল শেখের ভোটকেন্দ্র হলেও, সেই তালিকায় তাঁর নামের নম্বর wb/41/283/405276 আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা।

এদিকে আগামী ৬ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন এবং ২৩ এপ্রিল নির্বাচন। তার আগে প্রার্থীর নাম ভোটার তালিকায় না থাকা নিঃসন্দেহে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যদিও কাজল শেখ এই ঘটনাকে কমিশনের চক্রান্ত বলেই দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যাঁদের নাম এখনও বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে, তাঁদের সকলের নামই সংশোধিত তালিকায় উঠে আসবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাঁসন কেন্দ্র থেকে বিদায়ী বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে তৃণমূল কংগ্রেস কাজল শেখকেই প্রার্থী করেছে। কিন্তু প্রার্থীর নাম নিয়েই এই অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জেলা রাজনীতিতে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন হতে দেখা যায়নি তাঁকে।

এরই মধ্যে নানুরের বিডিও সন্দীপ সিংহ রায় এবং বোলপুর মহকুমা শাসক অনিমেষকান্তি মান্না পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একাধিক বৈঠক করছেন। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আগামী শুক্রবারের মধ্যেই সংশোধিত তালিকা প্রকাশিত হতে পারে এবং তাতে অধিকাংশের নাম উঠে আসবে।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাজল শেখ। এর আগে এসআইআর নোটিশ পাওয়ার পরেই তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেছিলেন, তিনি রোহিঙ্গা নন, বাংলাদেশি নন, পাকিস্তান থেকেও আসেননি। তাঁর দাবি, ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন এবং ২০০২ সাল পর্যন্ত তাঁর সমস্ত নথি সঠিক ছিল। হঠাৎ করে তাঁর নামের বানান পরিবর্তন হওয়াকে তিনি পরিকল্পিত বলেই অভিযোগ করেছেন।

কাজল শেখ আরও দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে রাজ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এমনকী মানসিক চাপে আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁর অভিযোগ। পাশাপাশি ইলামবাজার ও বোলপুর শ্রীনিকেতন ব্লকে বিএলওদের গণপদত্যাগের ঘটনাও সামনে এসেছে। নিজের নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই বলেই জানিয়েছেন কাজল শেখ। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর পূর্বপুরুষরা বীরভূমের রাঙ্গামাটির বাসিন্দা এবং এর জন্য যা করণীয় করবেন পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বকেও জানাবেন। তবে তিনি আশাবাদী পরবর্তী তালিকায় তাঁর ও তাঁর মায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।

সবমিলিয়ে, নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা ঘিরে এই জটিলতা এখন বীরভূমের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। এখন নজর সংশোধিত তালিকার দিকেই।