আজকাল ওয়েবডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে বাড়িতে ঢুকে মারধর পুলিশের। বাবা তৃণমূল নেতা। তাই তাঁর ছেলেকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

 

বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার পিফা পঞ্চায়েতের ১২৮ নম্বর বুথের ঘটনা। এখানে তৃণমূল নেতা কাদের সর্দারের বাড়িতে গতকাল, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী হানা দেয়। কাদের সর্দার সেই সময় বাড়িতে না থাকায় তাঁর ছেলে আবু ফারহাদ সর্দারকে পুলিশ বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তিনি যেতে না চাইলে তাঁকে ধরে মারধর করা হয়। আবু ফারহাদ সর্দার রক্তাক্ত হন বলেও অভিযোগ উঠেছে। 

 

আবু ফারহাদ বলেন, 'গরমের জন্য আমি বাইরেই শুয়ে থাকি। পুলিশ এসে আমাকে হুমকি দেয়। বসিরহাট থানার পুলিশ এবং সিআরপিএফ আমার উপরে রীতিমতো হুমকি দেয়। আমি ছাত্র বলা সত্ত্বেও পুলিশ থামেনি।' তৃণমূল নেতা কাদের সর্দারের অভিযোগ, তিনি তৃণমূল দলটা সক্রিয়ভাবে করেন। সেই কারণে তাঁর ছেলের ওপরে এই অত্যাচার। 

 

পাশাপাশি ভোটের আগের রাতেই রণক্ষেত্র ভাঙড়। আইএসএফ–তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত একাধিক এলাকা। ভোটের আগের রাতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল। আইএসএফ ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে একাধিক এলাকা। নির্বাচনকে ঘিরে এই অশান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে। 

 

অভিযোগ অনুযায়ী, ভাঙড় দু’নম্বর ব্লকের বিজয়গঞ্জ থানার অন্তর্গত কোচপুকুর এলাকায় আইএসএফ কর্মীদের উপর হামলা চালায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। আইএসএফের দাবি, ভোট প্রচারের নামে তৃণমূল কর্মীরা এলাকায় ঘুরে বেরিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল এবং বিরোধীদের হুমকি দিচ্ছিল। 

 

এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে গেলে আইএসএফ কর্মীদের উপর চড়াও হন অভিযুক্তরা। শুরু হয় তুমুল বচসা, যা দ্রুত হাতাহাতি এবং মারধরে পরিণত হয়। অভিযোগ, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়েও হামলা চালানো হয়। 

 

এই ঘটনায় একজন মহিলা-সহ মোট চারজন আইএসএফ কর্মী আহত হন বলে জানা গেছে। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলেও দাবি করেছেন দলীয় নেতৃত্ব। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। 

 

অন্যদিকে, ভাঙড়ের জয়পুর এলাকাতেও একই চিত্র সামনে আসে। সেখানে আইএসএফ ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধর এবং উস্কানির অভিযোগ তুলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে কথা কাটাকাটি দিয়ে শুরু হলেও পরে তা বড় আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ। 

 

পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে এবং এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাগুলির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের নজরেও বিষয়টি এসেছে বলে সূত্রের খবর।

 

ভোটের ঠিক আগে এই ধরনের সংঘর্ষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় ভোটের উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও দুই পক্ষই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। 

 

সবমিলিয়ে, ভাঙড়ে ভোটের আগের রাতেই যে উত্তেজনা ও অশান্তির ছবি সামনে এল, তা আগামী দিনের পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলেই।