আজকাল ওয়েবডেস্ক: তাড়াহুড়ো করতে গিয়েই অনিচ্ছাকৃত ভুল। ভুল স্বীকার করে নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপে কেটেছে আইনি জটিলতা। রাজগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের মনোনয়ন জমা দিতে আর কোনও বাধা নেই। যা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ আসন থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগেই সমস্যায় পড়তে হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা প্রাক্তন অ্যাথলিট স্বপ্নাকে। রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা না দিয়েই গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। এর আগে ২০২০ সালে রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অফিসার পদে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন স্বপ্না। কিন্তু রেল আধিকারিকের পদ থেকে ইস্তফা না দিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। এরপর দল তাঁকে রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনের প্রার্থী করে। তাই নিয়ে শুরু হয় নতুন কাণ্ড। রেলের তরফে অভিযোগ, চাকরি করতে করতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় শৃঙ্খলাভঙ্গ হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৯ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়।
এরপর ১৬ মার্চ স্বপ্না ইস্তফা দিলেও, তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ‘ডিপার্টমেন্টাল এনকোয়ারি’র কারণে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান রেল কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে স্বপ্না কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তর এজলাসে মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বপ্নার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলার জন্য তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। কিন্তু, স্বপ্না যদি নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং রেলের কাছে অবসরকালীন কোনও সুযোগসুবিধা না চান, তাহলে রেল তাঁকে ছাড়পত্র দেবে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি বিকেল পাঁচটার মধ্যে স্বপ্নাকে তাঁর দোষ স্বীকার করে রেলকে চিঠি দিতে বলেন। স্বপ্না এই বিষয়ে রেলকে একটি চিঠি দেন। কিন্তু সেই চিঠিতে রেল সন্তুষ্ট হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এরপর রেলের পক্ষ থেকে বিচারপতির কাছে স্বপ্নার চিঠির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বিচারপতি স্বপ্নাকে পুনরায় নিজের ভুল স্বীকার করে রেলকে চিঠি দিতে বলেন।
অবশেষে গত ২৭ মার্চ স্বপ্না নিজের ভুল স্বীকার করে রেলের কাছে লিখিত বিবৃতি জমা দেন এবং চাকরি ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যা গ্রহণ করে রেল। এরপর রেল তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়।
চাকরির জটিলতা মিটতেই কোমড় বেঁধে ময়দানে নেমেছেন স্বপ্না। সোমবার সকালে জলপাইগুড়ি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাস ও বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে সঙ্গে নিয়ে রাজগঞ্জের ডুয়ার্স চা-বলয়ে জনসংযোগ করেন তিনি। প্রচারের ফাঁকে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে পরপর তিন বার বিধায়ক হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা খগেশ্বর রায়। স্বপ্না বর্মনের নাম এই বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ঘোষণা হতেই তিনি রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া-সহ অনুগামীদের নিয়ে স্বপ্না বর্মনকে ভোট না দেওয়ার কথা বলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। এরপর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়। এরপরেই স্বপ্না বর্মনের হয়ে ময়দানে নেমে পড়েছেন খগেশ্বর।
এদিন স্বপ্না প্রচারের মাঝে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। চিরাচরিত আচরণ মেনেই শুদ্ধ রাজবংশী ভাষায় ভাষণ দেওয়া থেকে শুরু করে সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দিতে দেখা যায় তাঁকে। আশাবাদী, তিনি এই আসনটিতে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। স্বপ্না জানান, তাঁর রাজনীতিতে আসা কেবল ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, বরং তাঁর সদ্যপ্রয়াত বাবার স্বপ্ন পূরণ করা। স্বর্গীয় পিতার ইচ্ছানুসারেই সাধারণ মানুষের সেবা করতে তিনি রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছেন। বাবার সেই অনুপ্রেরণা ও জেদকে পাথেয় করেই রাজগঞ্জের মানুষের সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন-পুরাতন ভুলে এই মুহূর্তে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই হেভিওয়েট অ্যাথলেটকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে।














