আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে বড়সড় আতঙ্কের ঘটনা সামনে এল লাভপুরে। শনিবার তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিনহার সমর্থনে একটি জনসভা ঘিরে হঠাৎ আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে বলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন উপস্থিত সকলেই।

এদিন সভায় যোগ দিতে এসেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাস্থলে শুরু থেকেই ছিল ব্যাপক ভিড় এবং উচ্ছ্বাস। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত হওয়ায় জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। মঞ্চে উঠে বক্তব্যও রাখেন তিনি। দলের উন্নয়নমূলক কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন সাধারণ মানুষের সামনে।

তবে তাঁর বক্তব্য শেষ করে মঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পরেই ঘটে যায় এই অঘটন। আচমকা সভামঞ্চে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, আর সেই সঙ্গে তৈরি হয় তীব্র আতঙ্ক।

আগুন দেখতে পেয়ে দর্শক ও কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অনেকেই প্রাণভয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন, ফলে কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত। মঞ্চে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকেই আগুন লাগে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়, আগুন লাগার সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা অন্য কোনও শীর্ষ নেতা। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির সম্ভাবনা থাকলেও তা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন মঞ্চে উপস্থিত টেকনিশিয়ানরা। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তারা অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তাদের তৎপরতাতেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভানো সম্ভব হয়। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড়সড় বিপদ ঘটতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনার পর কিছুক্ষণের জন্য সভাস্থলে উত্তেজনা ছড়ালেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনসভায় নিরাপত্তা এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনিক সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়ে উঠছে।