আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার সকালে বাসন্তী বাজার এলাকার ঘটনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে এবার বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন।
রাজ্যকে পাঠানো এক নির্দেশিকায় কমিশন জানিয়েছে, কর্মসূচির খবর থাকা সত্ত্বেও যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাসন্তী থানার ইনচার্জ অভিজিৎ পালকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় গত কয়েক দিন ধরেই কেন্দ্রীয় বাহিনী উপলব্ধ ছিল। তা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেই বাহিনী চাওয়া হয়নি। যা বাসন্তী থানার ইনচার্জ অভিজিৎ পালের গাফিলতি ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ বলে মনে করছে কমিশন।
এই প্রেক্ষিতে অবিলম্বে অভিজিৎ পালকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের অফিসার প্রবীর ঘোষকে বসন্তী থানার নতুন ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
কমিশন তাদের নির্দেশের পরেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শুক্রবার রাত ৯টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রের সোনাখালি এলাকায় বিজেপির একটি মিছিলকে ঘিরে বৃহস্পতিবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন আচমকাই দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়।
যার জেরে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়। পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয়পক্ষের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
যদিও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। ঘটনার জেরে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। ভোটের মুখে এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বিজেপির দাবি, তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। মিছিলটি সোনাখালি এলাকার বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করছিল। সেই সময় হঠাৎ করেই কিছু দুষ্কৃতী মিছিলে আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ।
বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দাবি, এই হামলার পিছনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থিত দুষ্কৃতীরাই জড়িত। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ঘটনার জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেন।
জানা গিয়েছে, এই সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গেও বিক্ষোভকারীদের বচসা বাধে। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেওয়ার আগেই বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। শাসকদল জানিয়েছে, বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্যই এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। তাদের দাবি, এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বিরোধীরাই।















