আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখেই তৃণমূলে যোগদান করলেন চন্দ্র বসু। রবিবার তৃণমূল ভবনে দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন তিনি।

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং সাংসদ কীর্তি আজাদ চন্দ্র বসুর হাতে তৃণমূল পতাকা তুলে দেন। এর আগে চন্দ্র বসু ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। এদিন বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যের শাসক দলে যোগ দিয়ে তিনি একবাক্যে স্বীকার করে নেন যে, তাঁর বিজেপিতে যোগদান ভুল ছিল।

তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, 'কয়েক বছর আগে আমি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করে ঐতিহাসিক ভুল করেছিলাম। সেই ভুল আমি আজ সংশোধন করে নিলাম।'

তিনি বলেন, 'ওরা ভারতের সংবিধানের বিরোধিতা করে।' তাঁর কথায়, 'বিভাজনের রাজনীতির বিরোধিতা করতে এই মুহূর্তে নেতাজির 'ভারতবর্ষ' ভাবনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।'

চন্দ্র বসুর অভিযোগ, বিজেপিতে যোগ দিয়ে বাংলার জন্য একাধিক প্রস্তাবও রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি। তিনি বলেন, 'শরৎচন্দ্র বোস এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের আদর্শেই আমার রাজনীতি। বিজেপি আশ্বাস দিলেও তা সম্ভব হয়নি।'

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই এসআইআর শুনানিতে তলব করা হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র বসুকে। তিনি নিজেই সেই শুনানি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কমিশনের বিরুদ্ধে।

সেই প্রসঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে নেতাজি স্মরণ মঞ্চ থেকে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একহাত নেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি।

মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, ‘চন্দ্রকেও তো ডেকেছে।’ মঞ্চ থেকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বেঁচে থাকলে কি তাকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হত? হিয়ারিংয়ে তাঁকেও ডাকা হত? কৈফিয়ত চাওয়া হত আপনি ভারতীয় কি না?’ এদিন নেতাজির জন্মদিন হিসেবে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

সেখানে নেতাজি সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশ করা নিয়ে কটাক্ষ করেন কেন্দ্রকে। মঞ্চ থেকেও সেই প্রসঙ্গে আক্রমণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নেতাজির জন্মদিন। আমাদের দুর্ভাগ্য যে এখনও এই দিনটিকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তিনি দেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন, আর ফিরে আসেননি। আমরা তাঁর জন্মদিন জানি, কিন্তু মৃত্যুদিনটা জানতে পারিনি।’ 

নেতাজির তৈরি প্ল্যানিং কমিশন বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে মমতা বলেন, ‘দেশের ইতিহাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাষাকে অসম্মান করা হচ্ছে। নেতাজি প্ল্যানিং কমিশন তৈরি করেছিলেন। জেনে বুঝে সেটা তুলে দিয়ে তার বদলে নীতি আয়োগ তৈরি করা হয়েছে।’

বাংলায় এসআইআর চলাকালীন একাধিক কৃতী ব্যক্তিকে হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। নিজেও তার মধ্যে পড়ে সেই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নেতাজির প্রপৌত্র। আর নির্বাচনের ঠিক আগেই এদিন যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে।