আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার রাতে ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এরপরই সমাজমাধ্যমে সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। 

 

শনিবার গভীর রাতে এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক লিখেছেন, "দশ জন্ম চেষ্টা করেও বাংলাবিরোধী গুজরাতি গ্যাং এবং তাদের দালাল জ্ঞানেশ কুমার আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে আঘাত হানতে পারবে না। সব কিছু নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। আমি চ্যালেঞ্জ করছি কেন্দ্রকে, ফলতায় ছুটে আসুক। দিল্লির কোনও গডফাদারকেও পাঠাক। সাহস থাকলে ফলতায় লড়ে দেখাক।" 

">

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন থেকে শনিবার পর্যন্ত, দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফলতা। এবার ফলতার সব বুথেই পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। 

শনিবার রাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, আগামী ২১ মে অর্থাৎ ফলপ্রকাশের তিন সপ্তাহ পর গোটা ফলতা বিধানসভায় ফের ভোটগ্রহণ হবে। আগামী ৪ মে রাজ্যের ২৯৩ আসনের ভোটগণনা ও ফলপ্রকাশ হবে। স্থগিত থাকবে শুধুমাত্র ফলতার ফলাফল। 

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই ফের ভোটগ্রহণ হবে। এই কেন্দ্রের ভোটের গণনা হবে ২৪ মে। 

ভোটের ফলাফল ঘোষণার দু'দিন আগে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ফলতা। ভোট দিতে না পারার অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপি সমর্থকরা। ফলতার হাসিমনগরে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তিন তৃণমূল কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। ধৃতেরা হলেন, আতিবুর শেখ, হাবিব মোল্লা, হাবিব শেখ। পুলিশ জানিয়েছে, পঞ্চায়েত প্রধান ইসরাফিল চাকদার ও তাঁর সঙ্গী সুজাউদ্দিন শেখের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করা হয়েছে। 

 

ভোটের পর থেকেই রাজনৈতিক সংঘাত, হামলা এবং পুনর্নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে এই বিধানসভার হাসিমনগর এলাকা। 

বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগ, বিজেপিকে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ তাঁরা হামলার মুখে পড়ছেন। শুধু মারধর নয়, খুনের হুমকি থেকে শুরু করে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই শনিবার হাসিমনগরে তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোটের দিন থেকেই সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। ভোটারদের বুথে যেতে বাধা, ভয় দেখানো, এমনকি জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার চাপ তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সেই সন্ত্রাস আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। 

তাঁদের দাবি, যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে মারধরও করা হচ্ছে। 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই হাসিমনগর এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। বিজেপি সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। ‘দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে’, ‘নিরাপত্তা দিতে হবে’—এই দাবিতে সরব হন তাঁরা। বিশেষ করে স্থানীয় এক পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে তাঁর গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী। সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এলাকায় টহল দিতে দেখা যায় জওয়ানদের। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি। অনেকেই বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।