ইন্দ্রজিৎ সাহু: হুমকি, বাধা ও আতঙ্কের আবহকে অগ্রাহ্য করেই ৭৬ বছর বয়সে বুথে দায়িত্ব পালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সিপিএমের প্রবীণ কর্মী গোপাল ভুঁইয়া। কেশপুরের ২৮ নম্বর রাণিয়ড় বুথে ভোটের দিন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে নিজের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ইভিএম সিল করে পাঠানো পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও বুথ ছাড়েননি বলে জানা গিয়েছে।

পেশায় দিনমজুর হলেও রাজনৈতিক বিশ্বাসে অটল গোপালবাবু দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। একসময় সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কেশপুরে বর্তমানে সংগঠন দুর্বল হলেও তাঁর সক্রিয়তা বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং বহু জায়গায় এজেন্টের অভাবের মধ্যে তিনি নিজেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বুথ এজেন্টের দায়িত্ব নেন।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতেও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। ২০০০ সালের পাঁশকুড়া উপনির্বাচনের পর তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তাঁর উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি সিপিএমের। তবুও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরেননি।

গোপাল ভুঁইয়ার কথায়, “অনেকবার আক্রান্ত হয়েছি, ভয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু আদর্শ ছেড়ে সরে দাঁড়ানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। যতদিন পারব, দায়িত্ব পালন করে যাব।”

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পরিষদ সদস্য মহম্মদ রফিক এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, “কেশপুরে এখন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। অতীতে যা হয়েছে, তা সিপিএমের আমলেই হয়েছে। বর্তমানে কোনও রকম সন্ত্রাসের প্রশ্নই ওঠে না।”