আজকাল ওয়েবডেস্ক: বহুবারের জয়ী বিধায়ককে সরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস রাজগঞ্জের জন্য মনোনীত করেছে স্বপ্না বর্মনকে। জোর কদমে চলছে প্রচার, তাঁর হয়ে প্রচার করেছেন খোদ অভিষেক ব্যানার্জি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কী হবে? রাজগঞ্জে এখন প্রশ্ন সবার। কারণ বারবার জটিলতার মুখোমুখি স্বপ্না। 

রাজগঞ্জে প্রশ্ন ঘুরছে, মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার অন্তিম পর্বে এসে হঠাৎই কি পাল্টে যেতে চলেছে  রাজগঞ্জের বিধায়ক প্রার্থী?

কেন? সূত্রের তথ্য, স্বর্ণ পদক জয়ী স্বপ্না বর্মণের কাগজ বিভ্রাট রয়েছে। । আগামিকাল, সোমবার মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। তার মধ্যে যদি প্রয়োজনীয় নথি স্বপ্না বর্মণের হাতে না আসে তবে বদলে যেতে পারে প্রার্থীর নাম।
আর তারই সঙ্গেই উঠে আসছে চার বছরের প্রাক্তন জয়ী বিধায়ক খাগেশ্বর রায়ের নামও। এই প্রসঙ্গে খগেশ্বর রায় জানিয়েছেন, 'শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন  কমান্ড অভিষেক ব্যানার্জি ফোন করে আমাকে কাগজ পত্র রেডি করতে বলেছেন। আমাকে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আগামিকাল অর্থাৎ সোমবার মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার সময়ই সকলে জানতে পারবে কী হচ্ছে।' 


স্বপ্না বর্মন টিকিট পাবার পর রাগে দুঃখে বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে মুখ্যমন্ত্রীর ফোনে মান ভঞ্জন হলেও সেই রকম ভাবে উৎসাহী ছিলেন না। তবে এই খবর জানার পরই খগেশ্বর রায়ের মুখে হাসি এবং আশার আলো জ্বলছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন "আমি চার বার জিতেছি এই বারও বিপুল পরিমাণ ভোটে জিতব, তা নিয়ে চিন্তার কোনও অবকাশ নেই। আমি ভীষণই আনন্দিত এবং আশাবাদী।'

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে তারা ‘ক্লিন সুইপ’ করবে। বিরোধী শিবিরকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “অভিষেক ব্যানার্জিকে আরও পাঁচবার আসতে বলুন, তাতেও কিছু করতে পারবে না।”

স্বপ্না বর্মনের নমিনেশন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত এবং এ নিয়ে রাজনৈতিকভাবে কিছু বলার নেই। “নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব নিয়ম-কানুন রয়েছে, সেই নিয়ম মেনেই নমিনেশন জমা দিতে হবে,” মন্তব্য করেন তিনি।

একইসঙ্গে চাকরি ছেড়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়েও বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, 'চাকরি হুট করে ছেড়ে দেওয়া যায় না, এর নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আমাদের জয়ন্তদা যখন প্রথমবার প্রার্থী হয়েছিলেন, তখন এনওসি পেতে তাঁকে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। এখনও তিনি পেনশন সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, কারণ সে সময় সঠিকভাবে রিলিজ করা হয়নি।'


তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা শুভঙ্কর মিশ্র বলেন, যদি কাউকে বরখাস্ত করা হয়ে থাকে, তাহলে তাকে এনওসি (NOC) দেওয়াই উচিত। কিন্তু সেটা না দিয়ে ঘোরানো-প্যাঁচানো হচ্ছে কেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তাঁর দাবি, বিষয়টি পুরোপুরি আইনি হলেও এখানে রাজনৈতিক চাপ কাজ করছে। কারণ ওই ব্যক্তি তৃণমূলের হয়ে প্রার্থী হতে চলেছেন, তাই কেন্দ্রের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি তাকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে।

শুভঙ্কর মিশ্রর কথায়, বিজেপি ভোটে পেরে উঠতে না পেরে এইভাবে অযথা ঝামেলা তৈরি করছে। “একদিকে ছাড়ছেও না, আবার গিলছেও না”—এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে বলেই তিনি মনে করছেন।

এদিকে তিনি জানান, বিষয়টি এখন আইনি পথে দেখা হচ্ছে। তৃণমূলের আইনজীবীরা সব দিক খতিয়ে দেখছেন। সব ঠিক থাকলে ওই ব্যক্তি অবশ্যই মনোনয়ন জমা দেবেন।

 

&t=1s