আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিকে ফর্ম ৬ নিয়ে বড় অভিযোগ তুলে সরব রাজ্যের শাসক দল। তার মাঝেই আরও বড় অভিযোগ। এবার একগুচ্ছ প্রমাণ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিহারের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম ছিল, এরম ব্যক্তির নাম রয়েছে বাংলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকাতেও। বুধবার ব্রাত্য বসু এবং ডেরেক ও'ব্রায়েন সাংবাদিক বৈঠক করে একগুচ্ছ প্রমাণ সমানে আনেন।
বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ তোলা হয়। একগুচ্ছ উদাহরণে শাসক দলের প্রথম উদাহরণ, সুলেখা কুমারী। অভিযোগ, বিহারের ২০২৫ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় EPIC নম্বর BYD4595792-সহ তালিকাভুক্ত ছিলেন তিনি এবং একইসঙ্গে বাংলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকাতেও নাম তাঁর। EPIC নম্বর ARZ2693778 সহ নিবন্ধিত। তিনি বিহারে বিধানসভা ১১৫ পার্ট ২১৪ এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ২৭৬ পার্ট ২৪৫-এ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত। তিনি দু'রাজ্যের ভোট দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।
রমেশ এবং তাঁর পুত্র। তৃণমূলের উদাহরণে দ্বিতীয় স্থানে। অভিযোগ, রমেশ এবং তাঁর ছেলে উমেশ বিহারের দুটি নির্বাচনী এলাকা, এসি ১০৮ এবং এসি ১০৯-এ দ্বৈত ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত এবং একইসঙ্গে দু'জনেই পশ্চিমবঙ্গেও তালিকাভুক্ত, অর্থাৎ এই রাজ্যেরও ভোটার। জায়গায় নামের, সামান্য তথ্যের অদল বদল করে তাঁরা ভোটার তালিকায় দু' জায়গায় নাম তুলেছেন। উদাহরণের তালিকায় উল্লিখিত, বাবা-ছেলের বিহারের ভোটার আইডি নম্বরও।
উদাহরণ তিন, শ্যামবাহাদুর যাদব। তিনি বিহারের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছেন আবার রয়েছেন বাংলার ভোটার তালিকাতেও। অভিযোগ, শ্যাম বাহাদুর যাদবের ২০২৬ সালের বিহার ভোটার তালিকায় EPIC নম্বর AHE0266973, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে EPIC নম্বর ARZ2693729। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দু'রাজ্যের ভোট দেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
ভোটের মুখে ফর্ম ৬ নিয়েও বড় অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের। সোমবার অভিষেক ব্যানার্জি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সুর চড়ান। নিজে প্রচার সেজে পৌঁছেও যান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে। সেখান থেকে বেরিয়েও কমিশনের বিরুদ্ধে সর চড়ান। অন্যদিকে মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো এই ইস্যুতেই চিঠি দেন জ্ঞানেশ কুমারকে।
তিনি সেই চিঠি পোস্ট করেন সমাজ মাধ্যমে। মমতা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, 'বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধে যে গুরুতর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে আমি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছি। অনিবাসী এবং বহিরাগতদের বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজার হাজার জাল ফর্ম ৬ আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় বিজেপির এজেন্টরা হাতে-নাতে ধরা পড়েছে। এটি ভোটার অপহরণের একটি প্রচেষ্টা, ঠিক সেই নোংরা খেলা যা বিজেপি মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতে সফলভাবে খেলেছে।'
সঙ্গেই মমতা লিখেছেন, 'যেখানে ৬০ লক্ষেরও বেশি প্রকৃত ভোটারের নাম বিচারাধীন রয়েছে এবং ত্রুটিপূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে ইতোমধ্যে ২০০ জনেরও বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, সেখানে নির্বাচন কমিশন এখন সন্দেহজনকভাবে বন্ধ দরজার পিছনে এই বিপুল সংখ্যক জাল আবেদনপত্র দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ব্যস্ত। এটি কেবল বেআইনি এবং মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধেই নয়, বরং বাংলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের উপর একটি সরাসরি আঘাত।'
















