আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার ২৯ এপ্রিল। বঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ফের উত্তপ্ত ক্যানিং। ক্যানিং পশ্চিমের ১১২ নম্বর বুথে হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। এই ঘটনায় এলাকায় দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ ভোটাররা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই বুথে পঞ্চায়েত প্রধানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ। অভিযোগ, ভোট চলাকালীন হঠাৎই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রধানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ঘটনার পরেই উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পরে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

বিক্ষোভকারীদের একাংশ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলেন। উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
এই পরিস্থিতিতে ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বুথের বাইরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররা চরম অসুবিধার সম্মুখীন হন। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে এসেও তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভোট দিতে এসে এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ভোটগ্রহণ পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, আচমকা পঞ্চায়েত প্রধানের উপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। শাসকদল এই ঘটনাকে 'পরিকল্পিত আক্রমণ' বলে অভিযোগ করেছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। বিরোধীদের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে, শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই অশান্তি তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রথমে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল। বিক্ষোভের মধ্যে পড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা সময় লেগেছে বলেও তারা দাবি করেছে। তবে তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও গোটা ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কেন ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখতে হল, কীভাবে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত, এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথাও গাফিলতি ছিল কিনা- সব দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
















