আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর অভিমান নয়৷ আবারও বাংলায় মমতাকেই চান ফিরোজা বিবি৷ বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামের জাদুবাড়িচকে ভোট দিয়েছেন হুইল চেয়ারে বসা এই অসুস্থ বৃদ্ধা৷ নন্দীগ্রামের আন্দোলনে শহিদ পরিবারের মুখে আজও একটাই দাবি- বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে আবার ক্ষমতায় আসুক মমতা ব্যানার্জি সরকার। 

অভিমান, বঞ্চনা আর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলনেত্রীর প্রতিই আস্থা রেখেছেন নন্দীগ্রামের শহিদমাতা ফিরোজা বিবি ও তাঁর পরিবার।

২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনে প্রাণ হারান ফিরোজা বিবির পুত্র শেখ ইমদাদুল। সেই রক্তাক্ত ঘটনার পর থেকেই আন্দোলনের মাটি ছাড়েননি ফিরোজা বিবির পরিবার। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ২০০৯ সালে নন্দীগ্রামের বিধায়ক নির্বাচিত হন ফিরোজা বিবি। এরপর ২০১১ সালেও তিনি পুনরায় জয়ী হন।

২০১৬ সালে তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকে সরিয়ে পশ্চিম পাঁশকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়। সেখানেও জয়লাভ করেন তিনি। ২০২১ সালেও পশ্চিম পাঁশকুড়া থেকে জয়ী হয়ে এলাকার উন্নয়নে নজির গড়েন তিনি। বয়সজনিত কারণে তাঁর পুত্র শেখ জহিরুল ইসলাম ২০১৬ সাল থেকেই বিধায়কের প্রতিনিধি হিসেবে পাঁশকুড়ায় সংগঠন ও সমাজসেবামূলক কাজে সক্রিয় ছিলেন।

তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে ফিরোজা বিবির নাম প্রার্থী তালিকায় না থাকায় পরিবারে কিছুটা অভিমান তৈরি হয়। আশা ছিল, হয়তো শহিদ পরিবার থেকে কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ফিরোজা বিবির পুত্র শেখ জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি প্রথম দিন থেকেই মায়ের সঙ্গে তৃণমূল করি। নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের সময় থেকে আজ পর্যন্ত মমতা  ব্যানার্জি আমাদের আদর্শ। কিছু কষ্ট থাকলেও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস আজও অটুট।”

তিনি আরও বলেন, “মা আজ অসুস্থ অবস্থায় হুইলচেয়ারে বসে নন্দীগ্রামের জাদুবাড়িচকে ভোট দিয়েছেন। আমিও পাঁশকুড়ার মেছোগ্রামে ভোট দিয়েছি। এখন সব অভিমান ভুলে ৪ তারিখের ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। লক্ষ্য একটাই- বাংলার উন্নয়নে ফের মমতা সরকার।”